US Iran War

বৈঠকের মাঝে ট্রাম্পকে বার বার ফোন! ঠিক কোন শর্ত মানল না ইরান? কেন আলোচনা ব্যর্থ? পাকিস্তান থেকে বিবৃতি ভান্সের

ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভান্স। রবিবার সকালে তিনি একটি বিবৃতিতে ‘দুঃসংবাদ’ দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে তাঁদের কোনও সমঝোতা হয়নি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৪
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। —ফাইল চিত্র।

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তি-আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান থেকে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সদের। তবে ইরানের জন্য ‘সেরা প্রস্তাব’টি তাঁরা রেখে এসেছেন। বৈঠক শেষে এমনটাই জানালেন ভান্স। ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভান্স। তা ছাড়াও ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন বিশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কাশনার। রবিবার সকালে ভান্স একটি বিবৃতি দিয়ে ‘দুঃসংবাদ’ দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে তাঁদের কোনও সমঝোতা হয়নি। কারণ, ইরান তাঁদের শর্ত মানতে চায়নি।

Advertisement

ভান্স তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘আমরা কোনও সমঝোতায় পৌঁছোতে পারিনি। এই খবর আমেরিকার চেয়ে ইরানের জন্য বেশি খারাপ। সমঝোতা ছাড়াই আমরা আমেরিকায় ফিরে যাচ্ছি। আমাদের শর্তগুলো খুব পরিষ্কার ভাবে ওঁদের জানিয়েছি, কী আমরা চাই এবং কী চাই না। যতটা সম্ভব স্পষ্ট করেই আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। ওরা সেটা মানতে চায়নি।’ বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্পের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ রেখেছিলেন ভান্সরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, ৬ থেকে ১২ বার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের ফোনে কথা হয়েছে। ট্রাম্পের বলে দেওয়া প্রস্তাবগুলিই ইরানের সামনে রেখেছিলেন ভান্স। তাতে ইরানের জবাব, তাদের অবস্থান ফোনেই ট্রাম্পকে তিনি জানান। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও সুরাহা হল না।

ইরান ঠিক কোন শর্ত মানতে চাইল না? ভান্স সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে জানান, ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর প্রকাশ্যে তিনি কোনও সমঝোতা করতে চান না। তাই বৈঠকের ভিতরের কথা প্রকাশ্যে আনবেন না। তবে একটি জায়গাতেই ইরান-আমেরিকা আলোচনা ধাক্কা খেয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভান্স। জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক বোমা তৈরি না-করার নিশ্চয়তা চান তাঁরা। তা মেলেনি। ভান্সের কথায়, ‘‘সহজ সত্যিটা হল, আমরা ইরানের কাছ থেকে পরমাণু বোমা তৈরি না-করার বিষয়ে একটা ইতিবাচক নিশ্চয়তা চাই। ওদের বলতে হবে যে, ওরা বোমা বানাবে না এবং পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা উপাদানও হাতে রাখবে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এটাই। সেই সমঝোতাতেই আমরা পৌঁছোতে চেয়েছি।’’

আমেরিকার হামলায় ইরানের পরমাণুকেন্দ্র সমস্তই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন ভান্স। তবে পরমাণু বোমা তৈরি না-করার মৌলিক কোনও ইচ্ছা ইরান দেখাচ্ছে না। সেটাই আমেরিকা দেখতে চায়। শুধু এখনকার জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা চান ভান্সরা। ইরান তাতে রাজি হয়নি। ভান্স জানিয়েছেন, ইরান এতে রাজি হবে বলে তিনি আশাবাদী এবং সেই আশা নিয়েই আমেরিকা ফিরছেন।

বিদেশে আটক ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে কি কথা হয়েছে বৈঠকে? ভান্স জানান, আরও অনেক কিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এমন কোনও পরিস্থিতিতে তাঁরা পৌঁছোতে পারেননি, যেখানে ইরান তাঁদের শর্ত মানতে রাজি হচ্ছে। আমেরিকার প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবিতে একেবারে অনড় ছিলেন না বলেও দাবি করেছেন ভান্স। ট্রাম্প ছাড়াও বৈঠক চলাকালীন ভান্সরা ফোনে কথা বলেছেন পিট হেগসেথ, বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো, অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট এবং অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে। ভান্সের এই বিবৃতির পর ইরান দাবি করেছে, আমেরিকার অবাস্তব, অযৌক্তিক দাবির কারণেই পাকিস্তানে আয়োজিত বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন