আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে তিনি ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে হরমুজ়ে পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াত স্বাভাবিক না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি নিশ্চিহ্ন করে দেবে মার্কিন বাহিনী। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলায় হিতে বিপরীত হতে পারে! উপসাগরীয় অন্তত চারটি দেশ বড়়সড় বিপদের সম্মুখীন হতে পারে ট্রাম্পের এক পদক্ষেপেই।
ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়ার পর ইরান থেকেও পাল্টা হুঁশিয়ারি আসে। তারা জানিয়ে দেয়, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে তারাও পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত আমেরিকার সমস্ত বিদ্যুৎ পরিকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র এবং জল পরিশোধন কেন্দ্রকে নিশানা করবে। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জ়োলফাকারির এই হুঁশিয়ারির পর প্রমাদ গুনছে উপসাগরীয় দেশগুলি। ওই অঞ্চলে বিদ্যুৎ এবং জল পরিশোধন কেন্দ্রের উপর বহু মানুষ নির্ভরশীল। সেই পরিষেবা ব্যাহত হলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে জনজীবন। তা উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে আমেরিকা হামলা চালালে ইরানের ক্ষতি হবে, এ কথা সত্য। তবে ইরানের উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলি তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। মরু অঞ্চলকে বাসযোগ্য করে তুলেছে বিদ্যুৎই। বিদ্যুতের মাধ্যমেই পানীয় জল পান ওই সমস্ত দেশের মানুষ। সমুদ্রের জলকে লবণমুক্ত করা হয় জল পরিশোধন কেন্দ্রে। বাহরিন এবং কাতারে পানীয় জলের ১০০ শতাংশই এই পদ্ধতিতে আসে। এ ছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ৮০ শতাংশ পানীয় জলের প্রয়োজন এবং সৌদি আরবের ৫০ শতাংশ জলের প্রয়োজন মেটে এই পদ্ধতিতেই। জল পরিশোধন কেন্দ্রগুলি বিদ্যুৎ ছাড়া চলবে না। আমেরিকা যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিশানা করে, তবে ইরানও প্রত্যাঘাত করতে বেশি সময় নেবে না বলে মনে করছেন এই সমস্ত দেশের আধিকারিকেরা। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ আক্রমণের সুর আরও এক ধাপ চড়িয়ে দাবি করেছেন, পশ্চিম এশিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি তাঁরা এমন ভাবে ধ্বংস করবেন, যাতে তা আর পুনর্নির্মাণ করা না-যায়। তা ছাড়া ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি কার্যকর করা হলে হরমুজ় প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড বাহিনী। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পকে ভেবেচিন্তে পা ফেলতে হবে। পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশের সুরক্ষা, কোটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।