ইরানের পরমাণুকেন্দ্র। —ফাইল চিত্র।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের ইস্পাহান পরমাণুকেন্দ্রের মূল স্থাপনা অক্ষতই রয়েছে। পরমাণুকেন্দ্রের কাছে দু’টি ভবনে ক্ষতি হয়েছে। পরমাণুকেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের কোনও আশঙ্কাও নেই। বিবৃতি প্রকাশ করে এমনটাই জানাল রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীনস্থ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। মঙ্গলবারই ইস্পাহানে পরমাণুকেন্দ্রের কাছে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। তার পর থেকেই উদ্বেগ দানা বাঁধতে থাকে। কারণ, গত বছর এই পরমাণুকেন্দ্রেই হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। এ অবস্থায় ইরানের পরমাণুকেন্দ্র নিয়ে বিবৃতি দিল আইএইএ।
কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইএইএ জানায়, ইরানের যে সব জায়গায় পারমাণবিক পদার্থ রাখা আছে, সেই জায়গাগুলিতে কোনও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়নি। ফলে আপাতত তেজস্ক্রিয় বিকিরণের কোনও ঝুঁকি নেই। ইস্পাহানে পরমাণুকেন্দ্রের কাছে দু’টি ভবনে শুধু ক্ষতি হয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে আইএইএ। পাশাপাশি নাতান্জ় পরমাণুকেন্দ্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এই পরমাণুকেন্দ্রটিতেও সম্প্রতি হামলা হয়েছিল।
নাতান্জ় প্রসঙ্গে মঙ্গলবারই আইএইএ জানায় যে পরমাণুকেন্দ্রের প্রবেশপথের কাছে কিছু ভবনে ক্ষতি হয়েছে। তবে মাটির নীচে থাকা পরমাণু স্থাপনা অক্ষত রয়েছে বলেই জানিয়েছিল তারা। বুধবারের বিবৃতিতেও আইএইএ জানিয়েছে, প্রবেশপথের যে ক্ষতির কথা বলা হয়েছিল, তা ছাড়া অতিরিক্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়নি নাতান্জ় পরমাণুকেন্দ্রে। এ ছাড়া ইরানের বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রেও কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই বলে জানাচ্ছে তারা। মঙ্গলবার বিকেলে বুশেহর শহরেও হামলা হয়েছিল। বুশেহর বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিমান ধ্বংস হয়েছে ইজ়রায়েলি হানায়।
গত বছর জুনে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার বোমারু বিমানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নাতান্জ়, ইস্পাহান এবং ফোরডো পরমাণুকেন্দ্র। ওই হামলার এক বছরের মধ্যেই ফের নাতান্জ় এবং ইস্পাহানে হামলা চলল।