মামদানির বাড়ির সামনে ‘বোমা’ ছোড়ার অভিযোগ। — ফাইল চিত্র।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জ়োহরান মামদানির বাড়ির সামনে মুসলিম-বিরোধী বিক্ষোভের মাঝে ‘বোমা’ ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। সোমবার নিউ ইয়র্ক পুলিশ জানাল, দু’টি বিস্ফোরক ছোড়া হয়েছিল। ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে এই হামলার নেপথ্যে কে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিভিশনের কমিশনার জেসিকা টিশ প্রথমে জানিয়েছিলেন, মামদানির বাড়ির সামনে যে জিনিসটি ছোড়া হয়েছে, তার মধ্যে পেরেক, নাটবল্টুর মতো জিনিসপত্র মিলেছে! তবে সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে টিশ জানান, ওই বিস্ফোরক আইইডি। তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দু’জনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তাঁদের জেরা চলছে। তবে ওই ডিভাইসগুলি ভুয়ো বা ধোঁয়া বোম ছিল না। সেগুলি ছিল আইইডি, যা বিস্ফোরণ হলে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।’’
পুলিশের সন্দেহ এই হামলার নেপথ্যে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) থাকতে পারে! তদন্ত করে বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান টিশ। তিনি বলেন, ‘‘আইএস অনুপ্রেরণায় এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।’’
কট্টর দক্ষিণপন্থী নেটপ্রভাবী জেক ল্যাঙ্গের নেতৃত্বে কয়েক জন মামদানির নিউ ইয়র্কের বাসভবন গ্রেসি ম্যানসনের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন শনিবার (আমেরিকার সময়)। তাঁদের দাবি ছিল, নিউ ইয়র্কের গ্রেসি ম্যানসনের সামনে প্রকাশ্যে নমাজ পড়া বন্ধ করতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, জেকের দলে ছিলেন প্রায় ২০ জন। অন্য দিকে ওই দলের বিরোধিতা করে শতাধিক মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, এই পরিস্থিতিতে গাঢ় রঙের হুডি পরে এক ব্যক্তি টেপে মোড়া একটি জিনিস ছোড়েন মামদানির বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ বাহিনীর সামনে। তা থেকে ধোঁয়া বার হতে থাকে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে মামদানি বলেন, ‘‘ধৃতেরা পেনসিলভেনিয়া থেকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এসেছিলেন হিংসার ঘটনা ঘটাতে।’’ দ্রুত পদক্ষেপ করায় স্থানীয় পুলিশের প্রশংসাও করেন নিউ ইয়র্কের মেয়র।