Strait of Hormuz

ভারতমুখী পণ্যবাহী জাহাজের ‘দখল’ নিল ইরানের সেনাবাহিনী! হরমুজ় প্রণালীতে অচলাবস্থা অব্যাহত

বুধবারের হামলার খবর প্রথম জানিয়েছিল ব্রিটেনের ‘মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (ইউকেএমটিও)। পরে জানা যায় হামলা হয়েছে ভারতগামী জাহাজের উপর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৫৭
হরমুজ় প্রণালী।

হরমুজ় প্রণালী।

আবার হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের সেনাবাহিনীর নিশানায় ভারতমুখী জাহাজ। জানা গিয়েছে, বুধবার হরমুজ়ে দু’টি জাহাজ আটকায় ইরানের ইসলামিক রিপাবলিকান গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সেই দুই জাহাজের মধ্যে একটি লাইবেরিয়া থেকে খনিজ তেল নিয়ে গুজরাতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। তবে হরমুজ়ে ইরানের বাধা পেয়ে আটকে পড়ে। ওই জাহাজের ইঞ্জিন বিকল করে দিয়ে দখল নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।

Advertisement

ভারতমুখী জাহাজ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে আইআরজিসি একটি বিবৃতি জারি করে। সেই বিবৃতি উল্লেখ করে ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, পানামার এমএসসি ফ্রান্সেসকা এবং লাইবেরিয়ার এপামিনোডেস নামক দুই জাহাজ আইআরজিসি-র হেফাজতে রয়েছে। সেগুলি ইরানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সমুদ্রে জাহাজের গতিবিধির উপর নজরদারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লাইবেরিয়ার এপামিনোডেস জাহাজটি গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে, ওই জাহাজগুলির কাছে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছিল না।

বুধবারের হামলার খবর প্রথম জানিয়েছিল ব্রিটেনের ‘মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (ইউকেএমটিও)। তারা জানায়, কোনও আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই ওমান থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে পণ্যবাহী একটি জাহাজের কাছে আইআরজিসির গানবোট চলে এসে ভারী মেশিনগান থেকে গুলি চালায়। এতে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ বা ‘ব্রিজ’ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ঘটনার কিছু ক্ষণ পরে অন্য একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরান ফৌজের হামলার কথা জানায় সংবাদসংস্থা এপি। পরে জানা গেল, ওই দুই জাহাজের মধ্যে একটি ভারতের দিকে আসছিল।

এই প্রথম নয়, দিন কয়েক আগে দু’টি ভারতীয় জাহাজ ইরানের আক্রমণের কবলে পড়ে। শনিবার ব্রিটিশ সেনার তরফে এই হামলার বিষয়টি প্রথম জানানো হয়। তারা জানায়, ইরানের ‘রেভলিউশনারি গার্ড’ দু’টি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়েছে। ঘটনাটি ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে হয়েছে! প্রথমে জানা যায়নি কোন দুই পণ্যবাহী ট্যাঙ্কারের উপর গুলি চলেছে। পরে জানা যায়, দু’টিই ভারতীয় জাহাজ! ‘জগ অর্ণব’ নামের ভারতীয় ট্যাঙ্কারটি ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে সৌদি আরব থেকে ভারতের দিকে আসছিল। ওই ট্যাঙ্কারটির পিছনেই ছিল আরও একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার ‘সানমার হেরাল্ড’। সেটি ইরাক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছিল। সেই দু’টি জাহাজে হামলা হয়। এই হামলার পর ভারতের ‘রোষের মুখে’ পড়ে ইরান। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালিকে তলব করেছিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়।

ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্বের রেশ পড়েছে হরমুজ়ে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর পরই ইরান হরমুজ় ‘অবরোধ’ করে। তারা স্পষ্ট জানায়, কোনও জাহাজ ওই জলপথ পার করতে দেবে না। কেউ পার করার চেষ্টা করলে, হামলা চালানো হবে। তবে পরে ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে হরমুজ়ে ছাড় দেয় ইরান। তার পর থেকে কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় পেরিয়ে ভারতে এসেছে। তবে ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকার শান্তিবৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে হরমুজ়ে।

Advertisement
আরও পড়ুন