US-Iran Conflict

আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র শর্তে ‘না’! যুদ্ধ বন্ধ করতে পাল্টা প্রস্তাব ইরানের, সংঘাত কি থামবে, বাড়ছে সংশয়

আমেরিকা জানিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী খুলতেই হবে। ইরানের পাল্টা দাবি, তারা চায় হরমুজ় প্রণালী পরিচালনার জন্য নতুন কাঠামো তৈরি হোক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৬
Iran gives US several conditions for ceasefire talks

তেহরানে ক্ষতিগ্রস্ত বহুতল। — ফাইল চিত্র।

যুদ্ধ বন্ধ করতে আমেরিকাকে এ বার পাল্টা প্রস্তাব দিল ইরান! এমনই দাবি ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদনে। দুই দেশের প্রশাসনিক কর্তাদের ওই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে ইরান যাতে কোনও ধরনের পরমাণু কর্মসূচি করতে না-পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত সীমিত করার শর্তও দিয়েছে আমেরিকা। তবে ইরান যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তাতে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে, তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনও ধরনে আপোস করতে নারাজ! একই সঙ্গে আরও কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছে তেহরান।

Advertisement

‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যে দাবি পাঠিয়েছে, তাতে হরমুজ় প্রণালীর প্রসঙ্গ রয়েছে। আমেরিকা জানিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী খুলতেই হবে। এ বার ইরানের দাবি, তারা চায় হরমুজ় প্রণালী পরিচালনার জন্য নতুন কাঠামো তৈরি হোক। সেই কাঠামো অনুযায়ী ওই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করা সব জাহাজের থেকে শুল্ক আদায়ের সুযোগ দিতে হবে ইরানকে। সেই শর্তের কথা বলতে গিয়ে ইরান টেনেছে মিশরকে। সুয়েজ় খাল দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজ থেকে লাভ করে মিশর। সেই অনুরূপ ব্যবস্থা হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের জন্যও চালু করতে হবে।

ইরানের আরও দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলি বন্ধ করে দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, হামলায় ইরানের যা যা ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে মার্কিন প্রশাসনকে। সংঘাত যাতে পুনরায় শুরু না-হয়, তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি, ইরান সমর্থিত লেবাননের গোষ্ঠী হিজ়বুল্লার উপর হামলা বন্ধ করতে হবে ইজ়রায়েলকে। আমেরিকা তার প্রস্তাবে হিজ়বুল্লাদের মতো গোষ্ঠীদের কথা বলেছে। তাদের দাবি, ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলি যাতে কোনও ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত না-হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। ওই সব সংগঠনকে অর্থসাহায্য এবং অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে তেহরানকে। এ ছাড়াও ইরানের উপর আরোপিত সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি করা হয়েছে।

‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন কর্তারা ইরানের দাবিদাওয়াকে ‘হাস্যকর এবং অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেছেন। শর্ত, পাল্টা শর্তের চাপে সংঘাতে ইতি আদৌ পড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান আরও বৃদ্ধি করতে পারে।

দিন দুয়েক আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আপাতত পাঁচ দিনের জন্য মার্কিন বাহিনী ইরানের কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা করবে না! সেই ঘোষণার সঙ্গে ট্রাম্প এ-ও জানান, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা চলছে। এবং সেই আলোচনা ‘ইতিবাচক’। মঙ্গলবার নতুন করে আবার সেই একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, এখন ইরানের যে নেতাদের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের কথা হচ্ছে, তাঁরা ‘সঠিক লোক’। আর আলোচনায় ‘সমাধান’ মিলবেই, আশাপ্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি এ-ও দাবি করেন, ‘‘ওরা (ইরান) এমন একটা কাজ করেছে, তা অসাধারণ। ওরা আমাদের একটা উপহার দিয়েছে। উপহারটি অনেক বড় এবং বিপুল মূল্যের।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরান নাকি যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে চুক্তি করতে ‘মরিয়া’। সেই আবহেই দুই পক্ষের শর্ত প্রকাশ্যে এল।

Advertisement
আরও পড়ুন