US Iran Conflict

‘ট্রাম্পের বাহিনীকে ভয় পাই না’, মার্কিন সেনার আনাগোনা নিয়ে দুই ‘বন্ধু’ দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে! জানিয়ে দিল ইরান

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচী দাবি করেছেন, সেনা সজ্জা বা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে কোনও ভাবেই তাঁদের দমিয়ে রাখা যাবে না। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনার আনাগোনায় তাঁরা আদৌ ভীত নন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৩
(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ করতে ভয় পায় না, সাফ জানাল ইরান। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনার আনাগোনা এবং আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা নিয়ে ইতিমধ্যে তারা দুই ‘কৌশলী বন্ধু’ দেশের সঙ্গে আলোচনাও সেরে নিয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, সেনা সজ্জা বা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে কোনও ভাবেই তাঁদের দমিয়ে রাখা যাবে না।

Advertisement

রবিবার ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন আব্বাস। সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সেখানেই আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা-বৈঠক এবং তেহরানের পরমাণু পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। আব্বাস জানান, ওমানে আয়োজিত পরোক্ষ সমঝোতা-বৈঠক চলছে বটে, কিন্তু তাকে আমেরিকা আদৌ খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না। ইরানের পরমাণু পরিকল্পনা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না, জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী।

আব্বাস বলেন, ‘‘আমরা কেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের উপর এত জোর দিচ্ছি? কেন কিছুতেই হাল ছাড়ছি না? যুদ্ধের হুঁশিয়ারিতেও কেন টলছি না? কারণ, আমরা কী করব, সেটা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার অন্য কারও নেই। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে আমেরিকার সেনা মোতায়েনে আমরা একেবারেই ভয় পাই না।’’ আমেরিকার মোকাবিলার জন্য কাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে ইরান? আব্বাস জানিয়েছেন, সমঝোতা-বৈঠক এবং মার্কিন সেনার আনাগোনা নিয়ে চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে তেহরানের কথাবার্তা চলছে। এই দুই দেশকে ইরানের ‘কৌশলগত বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেছেন বিদেশমন্ত্রী।

গত বছরের জুনে ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে টানা ১২ দিন ধরে যুদ্ধ চলেছিল। আমেরিকাও তাতে যোগ দিয়েছিল সাময়িক ভাবে। তার পর শুক্রবারই প্রথম মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় বসেন ইরান কর্তৃপক্ষ। ওমানে সেই আলোচনা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মনে করছেন না কেউই। বরং ট্রাম্প একাধিক বার দেশটিতে মার্কিন সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আরব সাগরে মোতায়েন করেছেন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। ইরানে তেল পরিবহণের জন্য সম্প্রতি ১৪টি জাহাজ এবং বিভিন্ন দেশের ১৫টি সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হোয়াইট হাউস।

পশ্চিম এশিয়ায় একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ ইজ়রায়েল। অভিযোগ, ইরানও পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। ইরান বার বার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আব্বাস রবিবার বলেন, ‘‘ওরা আমাদের অ্যাটমিক বোমাকে ভয় পায়। কিন্তু আমরা সেটা চাইছিই না। বড় বড় শক্তিগুলিকে ‘না’ বলার ক্ষমতা আমাদের আছে, সেটাই আমাদের বোমা।’’

Advertisement
আরও পড়ুন