Strait of Hormuz

হরমুজ় প্রণালী সম্পূর্ণ দখলে, দাবি ইরানের! জাহাজের পর জাহাজ জলপথ জুড়ে দাঁড়িয়ে, রণতরী পাঠাতে চলেছেন ট্রাম্প

হরমুজ় প্রণালী চওড়ায় ৪০ কিলোমিটার। যখন দু’টি জাহাজ পাশাপাশি যায়, তখন তাদের মধ্যে দুই কিলোমিটার ফাঁক থাকে। যুদ্ধ শুরু হতেই হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ সৃষ্টি করেছে ইরান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ১৪:৪৭
Iran’s IRGC say they have complete control over Strait of Hormuz

হরমুজ় প্রণালীর দু’পাশে জাহাজের সার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হরমুজ় প্রণালী! ওমান এবং ইরানের মধ্যে সরু সমুদ্রপ্রণালী। তবে সরু হলে কী হবে, এই প্রণালী দিয়েই জলপথে বিশ্বের অধিকাংশ তেল আমদানি-রফতানি হয়। সেই প্রণালী ‘সম্পূর্ণ দখল’ করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করল ইরানের ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড’ (আইআরজিসি) বাহিনী! সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মাথায় হাত পড়েছে বিশ্বের অনেক দেশের। বর্তমানে হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে রয়েছে শ’য়ে শ’য়ে জাহাজ। না-এগোতে পারছে, না-পিছোতে! ইরানের জারি করা বিধিনিষেধের কারণে হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্তব্ধ। সেই ভিড়ে রয়েছে মার্কিন জাহাজও। তবে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়।

Advertisement

হরমুজ় প্রণালী চওড়ায় ৪০ কিলোমিটার। যখন দুই জাহাজ পাশাপাশি যায়, তখন তাদের মধ্যে দুই কিলোমিটার ফাঁক থাকে। যুদ্ধ শুরু হতেই হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ সৃষ্টি করেছে ইরান। কিন্তু ট্রাম্প মনে করেন, সেই অবরোধ সহজেই সরানো সম্ভব। পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট গভীর হলেও বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের শৃঙ্খল রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তাঁর এই নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ-ও জানিয়েছেন, তাঁর এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। শুধু নৌবাহিনী নয়, আমেরিকার অর্থ উন্নয়ন নিগম (ডিএফসি)-কেও আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, বিশ্ব জুড়ে অবাধে শক্তিপ্রবাহ নিশ্চিত করবে আমেরিকা।

গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল একসঙ্গে ইরানে হামলার পর থেকেই প্রত্যাঘাত শুরু করে দেয় ইরান। ওই উত্তেজনা ছড়ায় হরমুজ় প্রণালীতেও। শনিবার থেকেই এই বাণিজ্যিক জলপথকে দৃশ্যত অবরুদ্ধ করে রাখে ইরান। কিছু জাহাজে হামলার খবরও মিলেছে ইতিমধ্যে। প্রত্যাঘাত শুরু করেই ইরানে বাহিনী হরমুজ় প্রণালী ‘দখলের’ চেষ্টা শুরু করে। ওই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিশ্বের তেলভান্ডার এবং অর্থনীতিতে আঘাত হানার পরিকল্পনা করে ইরান। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের কমান্ডার-ইন-চিফের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারির হুঁশিয়ারি, “হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করে, সেই জাহাজগুলিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।’’

রাশিয়া এবং চিন ছাড়া, কোনও দেশের তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে ইরান। তার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এবং বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া জাহাজগুলি দাঁড়িয়ে রয়েছে পর পর। এক ইঞ্চি এগোনোর সুযোগ নেই আপাতত। আর তার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তৈলভান্ডারে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রভাব পড়তে পারে ভারতেও। যদিও মঙ্গলবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী বলেছেন ‘‘পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত পুরোপুরি প্রস্তুত।’’ পাশাপাশি, ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়াও। মস্কো জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহে কোনও সমস্যা হলে ভারতের চাহিদা পূরণ করতে রাশিয়া প্রস্তুত।

Advertisement
আরও পড়ুন