Iran-Israel Conflict

খামেনেইকে হত্যার ছক কষা হয় ৯০ দিন আগেই! গোপন বৈঠকও করেন নেতানিয়াহু, সাক্ষাৎকারে দাবি ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

কাটজ় দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি ইরান আক্রমণ করে খামেনেইকে হত্যা করা হবে, প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যেতে শুরু করে যে, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৯
খামেনেইয়ের ঠিকানায় হামলা ইজ়রায়েল, আমেরিকার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

খামেনেইয়ের ঠিকানায় হামলা ইজ়রায়েল, আমেরিকার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যার পরিকল্পনা হয়ে গিয়েছিল ৯০ দিন আগেই? ৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি করেছেন ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাটজ়। শুধু তা-ই নয় কাটজ় জানান, খামেনেইকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিতে গোপনে একটি বৈঠকও করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতের আবহে ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই দাবি ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Advertisement

কাটজ় দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি ইরান আক্রমণ করে খামেনেইকে হত্যা করা হবে, এমনটা প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এত দ্রুত বদল হতে শুরু করে যে, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেয় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। ইজ়রায়েলের চ্যানেল ১২-কে কাটজ় আরও জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘনিষ্ঠ কয়েক জনকে নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে নেতানিয়াহু স্পষ্ট নির্দেশ দেন, তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইকে হত্যা করা।

কাটজ়ের আরও দাবি, ওই বৈঠকে স্থির হয়ে গিয়েছিল ২০২৬ সালের মাঝামাঝি অর্থাৎ জুনে এই অভিযান শুরু করা হবে। তবে তাদের এই পরিকল্পনার কথা প্রথমে আমেরিকাকে জানানো হয়নি। কারণ, এটাই প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ইজ়রায়েল একা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবে। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ থেকে ইরানের পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলাতে শুরু করে যে, তখন তাদের পরিকল্পনার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানান নেতানিয়াহু। কারণ, ইজ়রায়েলের সন্দেহ ছিল, ইরানের পরমাণু এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কর্মসূচি তাদের অস্তিত্বকে সঙ্কটে ফেলে দিতে পারে। ফলে তারা ভেবেছিল, অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়ার আগে সেই সমস্যার মূল কারণকে সমূলে উৎপাটন করে ফেলা দরকার।

ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেই ইরানে বিক্ষোভ প্রদর্শন চরমে পৌঁছোয়। ইরানের সাধারণ মানুষ খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন। আর তা থেকেই একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, দেশের অভ্যন্তরে চাপের মুখে পড়ে শাসকদল যে কোনও মুহূর্তে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারে। আর এই আশঙ্কা থেকে ইরানে অভিযানের পরিকল্পনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে আসা হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, তাঁদের এই পরিকল্পনার কথা আমেরিকাকে জানানো হয়। তার পর দুই দেশ মিলে ইরানে সামরিক অভিযানের পুরো ছক তৈরি করে। ইরান আগে হামলা করুক, এটা কখনওই হতে দেওয়া যাবে না। তাই অভিযানের পরিকল্পনাকে বদলে ফেলা হয়েছিল বলে দাবি কাটজ়ের। ফলে বছরের মাঝামাঝি হামলা চালানোর যে পরিকল্পনা আগে করা হয়েছিল, তা এগিয়ে আনা হয়। তার পরই ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার দুই দেশ মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামে। হামলার এক ঘণ্টার মধ্যেই খামেনেইকে হত্যা করা হয়েছিল। এই নিশানা এতটাই নিখুঁত ছিল যে, খামেনেইয়ের সঙ্গে ইরানের বেশ কয়েকজন সেনাকর্তারও মৃত্যু হয় এই সামরিক অভিযানে।

প্রসঙ্গত, তার পর থেকেই ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। একের পর এক হামলা চালাচ্ছে দুই প্রতিপক্ষই। যার জেরে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে সামরিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন