ইজ়রায়েলের ‘আয়রন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফাইল চিত্র।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মোকাবিলা করতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ পাঠাচ্ছে ইজ়রায়েল। শুধু তা-ই নয়, পাঠানো হচ্ছে সেনাও। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল প্রশাসনের দুই কর্তাকে উদ্ধৃত করে সাংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হানায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন আমেরিকার শক্তিশালী রেডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বার সেই অঞ্চলেই ইরানের হামলা ঠেকাতে ‘আয়রন ডোম’ পাঠাচ্ছে ইজ়রায়েল।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রথম কোনও দেশে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ মোতায়েন করছে ইজ়রায়েল। শুধু তা-ই নয়, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল ছাড়া তৃতীয় দেশ হিসাবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ায় সম্প্রতি ইরানকে কেন্দ্র করে যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে, অভিযোগ, তার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে সবচেয়ে বেশি হামলা চালিয়েছে ইরান। আমিরশাহির দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক সংঘাতের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত তাদের লক্ষ্য করে ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দু’হাজারেরও বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সবচেয়ে বেশি হামলার নিশানা হওয়ায় ইজ়রায়েল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিজেই আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জ়ায়েদের সঙ্গে কথা বলেন। তার পরই ওই দেশে ‘আয়রন ডোম’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের পাশাপাশি পরিস্থিতির মোকাবিলায় সেনাও পাঠাচ্ছে ইজ়রায়েল। প্রসঙ্গত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ইজ়রায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ‘বন্ধু’ দেশকে তাই রক্ষা করতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ইজ়রায়েল।
কী এই বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা? রাফাল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এবং ইজ়রায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ়-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি। আয়রন ডোম তার আশপাশে নূন্যতম ৪ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে। সূত্রের খবর, ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী এর ক্ষমতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করে চলেছে। ৭০ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সীমা ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে চলেছে।