জামাত প্রধান শফিকুর রহমান। — ফাইল চিত্র।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। এমনটাই দাবি করল দল। জামায়াতের আরও দাবি, ষড়যন্ত্র করেই এ সব করা হয়েছে। নাম না করে তারা আঙুল তুলেছে বিএনপির দিকে। তবে তাদের এই দাবি মানছে না খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। তারা বলছে, পোস্ট দেওয়ার প্রায় ন’ঘণ্টা পরে সমালোচনার মুখে পড়ে সেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলছে জামাত (এই নামেই সমধিক পরিচিত)। এই দাবি কতটা যুক্তিসঙ্গত? আমির শফিকুরের অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত যে পোস্ট নিয়ে বিতর্ক, তাতে লেখা হয়েছিল, মহিলাদের নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত নয়। আল্লা তাতে সম্মতি দেয় না।
রবিবার জামাতের প্রচার এবং সংবাদমাধ্যম বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, তাদের আমির অর্থাৎ শীর্ষনেতা এক্স অ্যাকাউন্ট কেউ বা কারা ‘ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে’ হ্যাক করেছে। তাদের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এই নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। কারা করেছে, তা জানার চেষ্টা করছে। অনেক দিন ধরেই আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি জুবায়ের। তিনি আরও দাবি করেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এ সব করা হয়েছে। শনিবার রাতে এই নিয়ে থানায় ডায়েরি করা হয়েছে জামাতের তরফে বলেও জানান জুবায়ের।
জুবায়ের নাম না করলেও আঙুল তুলেছেন বিএনপির দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘একটা গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তারা কিছু খারাপ ও আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে। এতে বোঝা যায়, ঠাকুরঘরে কে, আমি কলা খাইনি। জামায়াতের আশঙ্কা, এ কাজের সঙ্গে বিশেষ একটি দল বা তাদের সাইবার দলের কিছু ষড়যন্ত্রকারী জড়িত রয়েছে।’’
জামাতের আর এক নেতা সিরাজুল ইসলাম হ্যাক হওয়ার প্রমাণ দেখাতে গিয়ে সময়ক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, জামায়াত আমির শফিকুরের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে শনিবার বিকেল ৪টের শেষ পোস্ট করা হয়েছিল। এর পর সেটি হ্যাক করে ৪টা ৩৭ মিনিট নাগাদ একটি ‘আপত্তিকর’ পোস্ট করা হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিট নাগাদ বিষয়টি জানতে পেরে শফিকুরের এক্স হ্যান্ডল যাঁরা পরিচালনা করেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা জানান, অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। সিরাজুল আরও জানান, শনিবার বিকেল ৫টা নাগাদ অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করা হয় এবং ৫টা ২২ মিনিটে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছে।
বিএনপি এ কথা মানছে না। চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে আগে নেট ব্যবহারকারীদের জানানো উচিত। যাতে সকলে সতর্ক থাকতে পারেন। তা করা হয়নি। জনগণ ক্ষুব্ধ হওয়ার পরে দাবি করা হয়, হ্যাক হয়েছে আমিরের অ্যাকাউন্ট। তাঁর কথায়, ‘‘এতে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য? এমনকি ওই সময়ের মধ্যে জামায়াত আমিরের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনেক পোস্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে আমরা তাঁর এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কোনও পোস্ট দেখতে পাইনি।’’ বিষয়টি জানার এত ক্ষণ পরে কেন থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে বিএনপি।