বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের সরকারের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শেষ পর্যন্ত জল্পনাই সত্যি হল। এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হবে না ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না তারা। বাকি সব ম্যাচে খেলতে কোনও সমস্যা নেই সলমন আলি আঘাদের। তবে পাকিস্তান সরকার এই কথা ঘোষণা করেছে। এ বার সরকারের সেই সিদ্ধান্ত আইসিসিকে জানাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে।
রবিবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মাঝেই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে পাকিস্তান সরকার। এক্স মাধ্যমে তারা জানায়, “পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না পাকিস্তান।”
বিশ্বকাপে গ্রুপ এ-তে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। অর্থাৎ, বাকি তিন দেশের বিরুদ্ধে খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না পাকিস্তান।
বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তানও প্রতিযোগিতা বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে তার মধ্যে এ-ও জানা গিয়েছিল, পুরো প্রতিযোগিতা নয়, শুধুমাত্র ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না তারা। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের উপর ছেড়েছিল সে দেশের ক্রিকেট বোর্ড। শেষ পর্যন্ত শাহবাজ় শরিফ সরকার সিদ্ধান্ত নিল, ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না তারা। অর্থাৎ, বিশ্বকাপে যে ম্যাচের উপর ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর ছিল, সেটাই হচ্ছে না।
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে খেলতে যেতে চায়নি। ভারতের দাবি মেনে তাদের সব ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে হয়েছিল। তখনই আইসিসি জানিয়ে দিয়েছিল, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারতে খেলবে না পাকিস্তান। সেই মতো তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় ছিল। অর্থাৎ, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে শ্রীলঙ্কায় যেতে হত। সেটাও হচ্ছে না।
পাকিস্তান যদি পুরো বিশ্বকাপ না খেলত তা হলে আরও কড়া শাস্তি হতে পারত। নির্বাসনের খাঁড়া ঝুলছিল। সেই কারণেই হয়তো শুধু ভারত ম্যাচ বয়কটের পথে গেল তারা। তবে এর পরেও শাস্তি হতে পারে পাকিস্তানের। ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে তাদের পয়েন্ট কাটা যেতে পারে। পাশাপাশি অন্য শাস্তিও পেতে হতে পারে। কারণ, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আইসিসির সঙ্গে হাইব্রিড মডেলের চুক্তি ভেঙেছে তারা। ভারতের মাটিতে পাকিস্তানের না খেলার দাবি মেনে নিয়েছিল আইসিসি। তার পরেও তারা ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন দেখার, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জয় শাহের আইসিসি কী জানায়।