US-Iran Peace Deal

সমঝোতা করতে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প, দাবি মোজতবার, কোন কারণে চুক্তি করতে রাজি হল ইরান, ব্যাখ্যা করলেন তা-ও

প্রথম দিকে তিনি যে এই চুক্তির পক্ষে ছিলেন না, তা-ও স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন মোজতবা। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পুত্রের কথায়, “আমি আদর্শের প্রশ্নে এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিলাম।”

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৯:১৩
(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

তেহরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করতে মরিয়া ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই দাবি করলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই। বুধবার দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে প্রথম বার মুখ খোলেন তিনি। দেশবাসীর উদ্দেশে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়ে মোজতবা জানান, চুক্তি করার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই বিষয়ে সবিস্তার কিছু জানাননি তিনি।

Advertisement

মোজতবার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা সদিচ্ছা এবং যথাযথ উদ্বেগের জায়গা থেকে (দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা করাতে) উদ্যোগী হয়েছেন। আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট মরিয়া প্রচেষ্টায় সমঝোতার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ করেছেন।” মোজতবা এই মন্তব্য করে ঘুরিয়ে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করেছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

প্রথম দিকে তিনি যে এই চুক্তির পক্ষে ছিলেন না, তা-ও স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন মোজতবা। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পুত্রের কথায়, “আমি আদর্শের প্রশ্নে এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিলাম।” তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এবং ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে তিনি পরে মতবদল করেন। মোজতবার অনুমতি নিয়েই শান্তিচুক্তিতে ডিজিটাল স্বাক্ষর করেন পেজ়েশকিয়ান।

কী কারণে এই মতবদল, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মোজতবা। তিনি জানিয়েছেন যে, দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা এবং ইরানের মিত্ররাষ্ট্রগুলির সুরক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আশ্বাস পেয়েই তিনি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সবুজসঙ্কেত দেন।

খামেনেইয়ের বিবৃতিতে এ-ও বলা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে আমেরিকা ইরানের উপর কঠোর কোনও শর্ত আরোপ করলে তা মেনে নেবে না তেহরান। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট কিংবা তাঁর সচিবালয় থেকে মোজতবার এই বিবৃতি নিয়ে মুখ খোলা হয়নি। তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দেশের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে সমঝোতা চালানোর ক্ষমতা ইরানের রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইরানের প্রশাসনিক কাঠামোয় একটি স্পষ্ট বিভাজনরেখা রয়েছে। এক দিকে রয়েছেন চরমপন্থীরা, অন্য দিকে তুলনায় উদারপন্থীরা। ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এই দ্বিতীয় গোষ্ঠীর মানুষ হিসাবেই পরিচিত। ইরানের প্রয়াত ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থীকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। অন্য দিকে, খামেনেইয়ের উত্তরসূরি মোজতবা চরমপন্থী শিবিরের নেতা হিসাবেই পরিচিত। গোড়া থেকেই আমেরিকার সঙ্গে কোনও রকম ‘আপসের’ বিরোধী তিনি। এই চরমপন্থী গোষ্ঠীটিকে ইরানের শাসনক্ষমতা থেকে সরাতেই ট্রাম্প একাধিক বার ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা জমানা বদলের কথা বলেছিলেন। কার্যক্ষেত্রে অবশ্য তা নেই। এখনও পর্যন্ত অন্তরালে থেকে বিবৃতি দিয়ে গেলেও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসাবে মোজতবার গুরুত্ব সে দেশের অন্য অনেকের তুলনায় অনেক বেশি।

Advertisement
আরও পড়ুন