Pakistan Army

আফগানিস্তান সীমান্তলাগোয়া পাহাড়ি এলাকায় চলছে ‘জঙ্গি নিকেশ’ অভিযান, ঘর ছেড়েছেন হাজার হাজার মানুষ

বাসিন্দাদের দাবি, মসজিদ থেকে তাঁদের ঘর ছাড়তে বলা হয়েছে। বরফে ঢেকে রয়েছে চারপাশ। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে। এই অবস্থাতেও ঘর ছাড়তে হয়েছে তাঁদের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫২
খাইবার পাখতুনখোয়ায় ঘর ছাড়ছেন বাসিন্দারা।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় ঘর ছাড়ছেন বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত।

পাকিস্তানে বড়সড় জঙ্গি-বিরোধী অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। তবে তার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই ঘর ছেড়েছেন উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের দাবি, মসজিদ থেকে তাঁদের ঘর ছাড়তে বলা হয়েছে। বরফে ঢেকে রয়েছে চারপাশ। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে। এই অবস্থাতেও ঘর ছাড়তে হয়েছে তাঁদের। বৃস্পতিবার রাত থেকে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের একাধিক নিরাপত্তাবাহিনী। এখনও পর্যন্ত অভিযানে ৬৭ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। প্রাণ হারিয়েছেন নিরাপত্তাবাহিনীর ১০ কর্মী এবং ১১ জন সাধারণ নাগরিক।

Advertisement

আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে রয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের তিরা উপত্যকা। তুষারপাতের মধ্যেই সেখানকার বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে শহরে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। তিরা উপত্যকা থেকে পরিবার নিয়ে ৭১ কিলোমিটার দূরে বারা শহরে পালিয়েছেন গুল আফ্রিদি। তিরাতে একটি দোকান ছিল তাঁর। গুল বলেন, ‘‘মসজিদে ঘোষণা করা হয়, সকলে গ্রাম ছাড়ুন। তার পরে আমরা পালিয়ে যাই।’’

স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, হাজার হাজার পরিবার ওই সব এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। ওই আধিকারিকেরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাঁরা জানিয়েছেন, আশপাশের শহরে গিয়ে ওই ঘরছাড়া পরিবারগুলি আশ্রয় নিয়েছে। সেখানকার প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছে।

এই তিরা উপত্যকা তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তানের শক্ত ঘাঁটি। সেখানে বার বার জঙ্গিদের হামলার শিকার হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। এ হেন জায়গায় কি অভিযান চালানো হবে? মঙ্গলবার সেই প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ তিরায় পরবর্তী অভিযানের কথা অস্বীকার করেন। উল্টে দাবি করেন, প্রবল ঠান্ডার কারণে স্থানীয়েরা অন্যত্র সরে যাচ্ছেন। এটা প্রতি বছরই হয়ে থাকে।

যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বলছে, দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তাবাহিনী, আদিবাসী নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, হতাহতের ঝুঁকি কমাতে স্থানীয়দের সাময়িক ভাবে ঘর ছাড়তে বলা হয়। প্রবল শীতের বিষয়টি উপেক্ষা করেই নিরাপত্তার স্বার্থে তা করতে বলা হয়। তবে এই নিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগকারী বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বা খাইবার পাকতুনখোয়া প্রশাসন শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।

আবদুর রহিমা নামে তিরার এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘এই অঞ্চলে শীতকালে এ রকমই ঠান্ডা পড়ে। সে জন্য আমরা ঘর ছাড়িনি। আমরা নির্দেশ পেয়ে ঘর ছেড়েছি।’’ গুল জানিয়েছেন, এক সরকারি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। উদ্বিগ্ন গুলের কথায়, ‘‘এখানে আমাদের কোনও ঘর নেই। কাজ নেই। ভবিষ্যতে কী হবে, জানি না।’’ আবদুল আজিমের দাবি, এই প্রবল ঠান্ডায় অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃস্পতিবার রাত থেকে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে দুই বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং টিটিপি-র বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পাক ফৌজ। সঙ্গী সশস্ত্র পুলিশ, বিশেষ সন্ত্রাসদমন বাহিনী ‘কাউন্টার-টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট’ (সিটিডি) এবং দুই আধাসেনা— ফ্রন্টিয়ার কোর ও রেঞ্জার্সের যৌথবাহিনী।

Advertisement
আরও পড়ুন