তেহরান বিমানবন্দরে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: পিটিআই।
সমঝোতার জন্য ইরান এবং আমেরিকাকে ফের আলোচনায় বসাতে চায় পাকিস্তান। সেই চেষ্টা চলছে। বুধবার ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছে গিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁর সঙ্গে পাক মন্ত্রী মহসিন নকভিও রয়েছেন। সূত্রের খবর, আমেরিকার তরফে নতুন একটি বার্তা নিয়ে ইরানে গিয়েছেন মুনিররা। দ্বিতীয় দফার সমঝোতার আলোচনা প্রসঙ্গেই সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা সূত্র উল্লেখ করে এই দাবি করেছে।
ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। তা-ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাতেই সম্ভব হয়েছিল বলে যুযুধান দু’পক্ষ দাবি করে। এর পর গত শনিবার ইসলামাবাদে আমেরিকা এবং ইরানের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন। তবে ২১ ঘণ্টার আলোচনাও ব্যর্থ হয়। ইরান ও আমেরিকা যুদ্ধ নিয়ে কোনও সমঝোতায় পৌঁছোতে পারেনি। পাকিস্তান জানিয়েছিল, তারা মধ্যস্থতা এবং পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বার দুই দেশকে মুখোমুখি বসাতে উদ্যোগী পাকিস্তান। মুনিরদের তেহরান সফরকে সমঝোতা এবং শান্তির উদ্যোগ পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টা বলে মনে করছেন কেউ কেউ। মুনির এবং নকভিকে তেহরানের বিমানবন্দরে স্বাগত জানান ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত থামানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। দাবি করেছেন, সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে তিনি আর চান না। এবিসি নিউজ়কে একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমার সত্যিই মনে হয়, আপনারা সামনে দারুণ দুটো দিন দেখতে চলেছেন।’’ অন্য কোনও বিকল্পের চেয়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতেই তিনি পছন্দ করবেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সূত্র উল্লেখ করে দাবি করেছে, দ্বিতীয় বার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। সেই আলোচনার নেতৃত্বেও থাকতে পারেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। প্রতিনিধিদলে থাকবেন বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারে়ড কুশনার। ইসলামাবাদেই আলোচনা হবে। সূত্রের দাবি, ২১ ঘণ্টার আলোচনা ভেস্তে গেলেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এক মার্কিন আধিকারিক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘ভবিষ্যতের বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও দিনক্ষণ কিছু চূড়ান্ত হয়নি।’’