Iran-US Conflict

ট্রাম্পের অবরোধ গলে এক দিনে হরমুজ় পেরিয়ে গিয়েছে অন্তত আটটি জাহাজ, তার মধ্যে তিনটিই আবার ইরানের

আমেরিকার অবরোধের পরেই আরও দু’টি ট্যাঙ্কার হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পারাপার করেছে। অবরোধের পরে প্রথম পারাপার করেছে ‘রিচ স্টারি’। তাতে ছিল মিথানল। দ্বিতীয়টি ইরাক থেকে জ্বালানি আনতে গিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩৬
হরমুজ় প্রণালী।

হরমুজ় প্রণালী। — ফাইল চিত্র।

হুঁশিয়ারি দিয়ে হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ শুরু করেছে আমেরিকা। মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সেই পদক্ষেপ তেমন প্রভাব ফেলেনি জাহাজ চলাচলে। জাহাজ চলাচলের নথি দেখে এমনটাই বলছে রয়টার্স। তারা জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ় দিয়ে মোট আটটি জাহাজ পারাপার করেছে। তার মধ্যে তিনটি আবার ইরানের।

Advertisement

সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকে বসেছিল ইরান এবং আমেরিকা। তাতে রফাসূত্র অধরাই থেকেছে। তার পরেই রবিবার ট্রাম্প হরমুজ় অবরোধ করে রাখবেন বলে ঘোষণা করেন। এর ফলে বিপাকে পড়ে পণ্যবাহী জাহাজগুলি। বিশেষত তেলবাহী জাহাজগুলি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সংঘাতের আগে এই হরমুজ় দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করত অন্তত ১৩০টি জাহাজ। সংঘাত শুরু হওয়ার পরে হরমুজ় অবরোধ করে রাখে তেহরান। তার পরে সেখান দিয়ে জাহাজ পারাপার অনেকটাই কমে গিয়েছে।

আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড এক্স অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে, অবরোধের পরে প্রথম ২৪ ঘণ্টা হরমুজ় দিয়ে কোনও জাহাজ পারাপার করেনি। ছ’টি জাহাজ মার্কিন সেনার নির্দেশ মেনে মুখ ফিরিয়ে আবার ইরানের বন্দরে ফিরে গিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার যে তিনটি ইরানের জাহাজ হরমুজ় পারাপার করেছে, তাদের কোনও সমস্যাতেই পড়তে হয়নি। কারণ, সেগুলির গন্তব্য ইরান ছিল না। আরও যে জাহাজগুলি পারাপার করেছে, তাদের মধ্যে একটি ট্যাঙ্কারের নাম হল ‘পিস গাল্ফ’। সেটি পানামার। ইরান থেকে পেট্রোরাসায়নিক নিয়ে সেটি আরব আমিরশাহির বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। জাহাজের পণ্য এশিয়ার দেশে রফতানি করা হবে।

আমেরিকার অবরোধের পরেই আরও দু’টি ট্যাঙ্কার হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পারাপার করেছে। অবরোধের পরে প্রথম পারাপার করেছে ‘রিচ স্টারি’। তাতে ছিল মিথানল। আরব আমিরশাহি থেকে পণ্য তুলেছিল চিনা সংস্থার সেই জাহাজ। দ্বিতীয়টির নাম ‘মুরলিকিসান’। সেটি ইরাক থেকে জ্বালানি আনতে গিয়েছে। এর আগে রাশিয়া, ইরান থেকেও জ্বালানি এনেছে সেই জাহাজ।

আমেরিকার এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে চিন। ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে জানিয়েছে। আমেরিকা যদিও জানিয়েছে, মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রবাহী জাহাজকে আটকানো হবে না হরমুজ়ে। জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফাব্রিজ়িয়ো কোটিচিয়া জানান, আমেরিকা কোনও জাহাজে আক্রমণ করবে না। শুধু তাদের মুখ ঘুরিয়ে দেবে। জাহাজের দালালি করে এমন সংস্থা বিআরএস রিপোর্টে দাবি করেছে, এক সপ্তাহ আগে হরমুজ়ে জাহাজ পারাপার যতটুকু স্বাভাবিক হয়েছিল, আমেরিকার নতুন করে অবরোধের পরে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ ভাবে চললে আগামী দিনে হয়তো ওই প্রণালী দিয়ে একটিও জাহাজ পারাপার করবে না।

পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে রবিবার ট্রাম্প জানান, হরমুজ়ে পণ্য পরিবহণকারী সমস্ত জাহাজ আটকাবে আমেরিকা। ট্রাম্পের নির্দেশের পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেয়। সেই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ়ে অবরোধ নিরপেক্ষ ভাবে সকল দেশের উপরেই প্রয়োগ করা হবে। যে সমস্ত জাহাজ ইরানের কোনও না কোনও বন্দরে প্রবেশ করার চেষ্টা করবে বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে, সেগুলিকেই আটকানো হবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলির ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না-রেখে যে জাহাজগুলি হরমুজ় দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের বাধা দেবে না মার্কিন সেনা। তাদের জলপথে যাতায়াতের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না। তার আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ় অবরোধ করে রেখেছিল ইরান।

Advertisement
আরও পড়ুন