Bangladesh Situation

বাংলাদেশে পুলিশি রদবদল ঘিরে প্রশ্ন

বিএনপি-র বক্তব্য, লটারিতে এসপি-ডিসিদের নিয়োগের দাবি জামায়েতে করেছিল, সরকার সেটাই মেনেছে। এর ফলে সব ভাল হয়েছে, সেটা যেমন বলা যাবে না, তেমনই সব খারাপ হয়েছে, সেটাও বলা যাবে না। তবে অদক্ষ, অযোগ্য বা পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই এমন অনেক অফিসারকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপি-র।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৭:২৫

—প্রতীকী চিত্র।

বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সুপরিকল্পিত ভাবে কারচুপির চেষ্টা চলছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের একটি সূত্র। নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে বিএনপি তো বটেই, এমনকি এনসিপি-ও খুশি নয় বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের বক্তব্য, জামায়েতে ইসলামীর স্বার্থ এবং লক্ষ্যপূরণে সহযোগিতা করতে তাদের পরামর্শেই চলছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার।

কী ধরনের পদক্ষেপ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে? বাংলাদেশে লটারির মাধ্যমে রাতারাতি পোস্টিং দেওয়া হয়েছে ৬৪টি জেলার পুলিশ সুপার, ৫২৭টি থানার ওসি-কে। এই আনকোরা প্রশাসনকে দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সে দেশের প্রাক্তন সচিব, পুলিশের প্রাক্তন মহাপরিদর্শক, রাজনীতিবিদদের মনে সংশয় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রশাসন দিয়েই নির্বাচন করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে, তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে। সরকার যে লটারির মাধ্যমে এই বদলিগুলো করেছে, তাতে ভাল হয়েছে বলেই মনে করে নির্বাচন কমিশন। তাদের দাবি, কারও কাজে দুর্বলতা ধরা পড়লে নির্বাচন কমিশন সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা করবে।

অন্য দিকে বিএনপি-র বক্তব্য, লটারিতে এসপি-ডিসিদের নিয়োগের দাবি জামায়েতে করেছিল, সরকার সেটাই মেনেছে। এর ফলে সব ভাল হয়েছে, সেটা যেমন বলা যাবে না, তেমনই সব খারাপ হয়েছে, সেটাও বলা যাবে না। তবে অদক্ষ, অযোগ্য বা পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই এমন অনেক অফিসারকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপি-র। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে জামায়েতের জোটসঙ্গী হয়েও এনসিপি-ও একই কথা বলছে।

লটারিতে এসপি নিয়োগ নিয়ে অখুশি সে দেশের পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা। তাঁদের বক্তব্য, এএসপি থেকে এসপি পদে পদোন্নতিপেতে গেলে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভাগীয় অনেকগুলো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। বিশেষ করে তাঁর বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) এবং অপরাধ দমন ও সাধারণ মানুষকে সেবা দান করার বিষয়টি পর্যালোচনা করে মেধা নির্ধারণ করা হয়। এলাকাভিত্তিক পূর্ব অভিজ্ঞতাকে মাথায় রাখা হয়। কারণ এক-একটি জেলায় অপরাধের মাত্রা এবং স্থানীয় রাজনীতির মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। যেমন, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দুই জেলা যশোহর ও কুমিল্লায় অপরাধের মাত্রা এক রকম। আবার সিলেট জেলার অপরাধের মাত্রার সাথে রংপুর বা পঞ্চগড় জেলার অপরাধের মাত্রার মিল নেই। উপকূলীয় জেলাসমূহের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর অপরাধ ও স্থানীয় রাজনীতির অনেক পার্থক্য। লটারিতে পদ দেওয়া হলে দেখা যাচ্ছে, এমন কেউ এমন জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন, যিনি ওই জেলায় কাজের জন্য হয়তো পারদর্শী নন।

পুলিশ প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, এক মাসও পদাসীন হননি, এমন এক এক জন ডিসি-কে বদলি হয়ে চলে যেতে হয়েছে হঠাৎই। তাঁদের আশঙ্কা, এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট নক্সা রয়েছে, যা ভোটে জামায়েতেকে সুবিধা করে দিতে পারে।

আরও পড়ুন