Iran-US Conflict

হরমুজ়ে আমেরিকার অবরোধের পর থেকে কয়েকশো কোটি লোকসান ইরানের! পেন্টাগন বলছে, ‘লক্ষ্যপূরণ’

পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হরমুজ়ে পণ্য পরিবহণকারী সমস্ত জাহাজ আটকাবে আমেরিকা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ১৭:০৯
হরমুজ়ে আমেরিকার অবরোধের জেরে বিপাকে ইরান!

হরমুজ়ে আমেরিকার অবরোধের জেরে বিপাকে ইরান! — ফাইল চিত্র।

আমেরিকা পাল্টা হরমুজ় অবরুদ্ধ রাখার পর থেকে ওমান উপসাগরে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ইরানের ৩১টি ট্যাঙ্কার। তাতে রয়েছে ৫ কোটি ৩০ লক্ষ ব্যারেল তেল। এর ফলে ধাক্কা খেয়েছে তেহরানের তেল রফতানি। পেন্টাগন বলছে, তার জেরে গত তিন সপ্তাহে কয়েকশো কোটি টাকার লোকসান হয়েছে ইরানের।

Advertisement

ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরে, গত ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ় প্রণালী সংলগ্ন ইরানের বন্দরগুলি অবরুদ্ধ করেছে আমেরিকা। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়সের দাবি, এর জেরে ইতিমধ্যে ভারতীয় মুদ্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা (৪৮০ কোটি ডলার) ক্ষতি হয়েছে ইরানের। আগামী দিনে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও দাবি তাদের।

পেন্টাগন অ্যাক্সিয়সকে জানিয়েছে, তারা হরমুজ় অবরোধ করার পর থেকে ইরানের তেল বহনকারী ৪০টি জাহাজ পারাপারের চেষ্টা করেছে। দু’টি জাহাজকে আটক করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তেল রফতানি ধাক্কা খাওয়ায় দেশে তার সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়। এ দিকে রাখার মতো যথেষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় সমুদ্রে ভাসমান পুরনো ভেসেলেই তেল ভরে রাখতে শুরু করে ইরান। তাতে সমস্যার কিছুটা সমাধান হলেও পুরোপুরি হয়নি। সূত্রকে উদ্ধৃত করে অ্যাক্সিয়স দাবি করেছে, এ ভাবে চললে আর কয়েক সপ্তাহ বা এক মাসে ইরানের আর কোনও আধার থাকবে না তেল সঞ্চয়ের। সে ক্ষেত্রে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দিতে হবে। ইরানের কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কার আমেরিকার অবরোধ এড়াতে ঘুরপথে যাতায়াত করছে। তাতে সময় এবং খরচ অনেক বেশি। ভারত এবং পাকিস্তানের উপকূল ধরে ওই জাহাজগুলি মালাক্কা প্রণালীতে গিয়ে চিনের জাহাজে তেল তুলে দিচ্ছে।

পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হরমুজ়ে পণ্য পরিবহণকারী সমস্ত জাহাজ আটকাবে আমেরিকা। ট্রাম্পের নির্দেশের পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেয়। সেই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ়ে অবরোধ নিরপেক্ষ ভাবে সকল দেশের উপরেই প্রয়োগ করা হবে। যে সমস্ত জাহাজ ইরানের কোনও না কোনও বন্দরে প্রবেশ করার চেষ্টা করবে বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে, সেগুলিকেই আটকানো হবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলির ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না-রেখে যে জাহাজগুলি হরমুজ় দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের বাধা দেবে না মার্কিন সেনা। তাদের জলপথে যাতায়াতের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।

পেন্টাগনের প্রেসসচিব জোয়েল ভালদেজ় জানান, আমেরিকার অবরোধ ‘ঈপ্সিত প্রভাব’ ফেলেছে। এর ফলে ইরান ‘সন্ত্রাসবাদ, আঞ্চলিক অস্থিরতায় মদত’ দিতে পারবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন