India-US Trade Deal

আমেরিকার জন্য এ বার দেশের কৃষিপণ্যের বাজারও ‘আংশিক’ খুলে দিলেন মোদী! আর কী কী করতে হবে বাণিজ্যচুক্তির শর্তে

এর আগে শোনা গিয়েছিল, কৃষিপণ্য নিয়ে দু’পক্ষ বোঝাপড়ায় আসতে না-পারার জন্যই বাণিজ্যচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েও থমকে গিয়েছে। মার্কিন কৃষিজাত পণ্যের বাজার ‘আংশিক’ খুলে দিয়ে ভারত আগের অবস্থান থেকে খানিক সরে এল কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৮

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বাণিজ্যচুক্তির শর্ত হিসাবে এ বার ভারতের কৃষিক্ষেত্রের দরজাও ‘আংশিক’ ভাবে খুলে দিতে চলেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। মঙ্গলবার এক ভারতীয় আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এমনটাই দাবি করেছিল সংবাদসংস্থা রয়টার্স। কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছু বলা না-হলেও দেশের প্রাক্তন বিদেশসচিব তথা রাজ্যসভার রাষ্ট্রপতি মনোনীত সাংসদ হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা খবরে সিলমোহর দিয়েছেন।

Advertisement

মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীংলা বলেন, “কিছু জিনিস আমেরিকা থেকে আসবে। কিন্তু সেগুলি আমাদের কৃষিক্ষেত্রের জন্য ক্ষতিকারক হবে না। এর মধ্যে কোনও স্ববিরোধিতা নেই। এর ফলে দেশের কৃষকেরা কোনও সমস্যায় পড়বেন না।”

এক ভারতীয় আধিকারিককে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, আমেরিকা থেকে পেট্রোলিয়াম দ্রব্য, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিমানবহর কিনতে রাজি হয়েছে নয়াদিল্লি। টেলিকম সংক্রান্ত সামগ্রী, ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রেও সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে ভারত। এর পাশাপাশি আমেরিকার নির্দিষ্ট কয়েকটি কৃষিজ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ওই আধিকারিকের। প্রসঙ্গত সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলির জন্যও দেশের কৃষিক্ষেত্রের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

এর আগে কেন্দ্রের একাধিক সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, আমেরিকা তার ভুট্টা, সয়াবিন, দুগ্ধজাত পণ্যে শুল্ক কমানোর দাবি তুলেছে। জিএম (জেনেটিক্যালি মডিফায়েড) শস্যের জন্যও ভারতের বাজার খুলতে বলছে তারা। ওই সব সূত্র মারফতই জানা গিয়েছিল, আমেরিকার আর্জি সত্ত্বেও এই বিষয়ে অবস্থানে অনড় ছিল নয়াদিল্লি। শোনা গিয়েছিল, কৃষিপণ্য নিয়ে দু’পক্ষ বোঝাপড়ায় আসতে না-পারার জন্যই বাণিজ্যচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েও থমকে গিয়েছে। মার্কিন কৃষিজাত পণ্যের বাজার ‘আংশিক’ খুলে দিয়ে ভারত আগের অবস্থান থেকে খানিক সরে এল কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতের উপর ‘পারস্পরিক শুল্ক’ (রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ) ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য আরোপিত ২৫ শতাংশ ‘জরিমানা শুল্ক’ থাকবে, না প্রত্যাহার করা হবে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট করেননি তিনি। পরে হোয়াইট হাউসের আধিকারিক সূত্রে রয়টার্স জানায়, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর চাপানো ২৫ শতাংশ ‘জরিমানা শুল্ক’ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে আমেরিকা। কারণ, এই শুল্কটি ২৫ শতাংশ ‘পারস্পরিক-শুল্ক’-এর উপরে অতিরিক্ত হিসাবে চাপানো হয়েছিল।

সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরিবর্তে আমেরিকা থেকে বেশি করে তেল কিনবে ভারত। এ ছাড়া আমেরিকা থেকে ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২২ কোটি টাকার পণ্যও কেনার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। ভারতীয় পণ্যে শুল্ক কমানোর নেপথ্যে এগুলিই অন্যতম কারণ বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।

ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। শুল্ক কমানোর জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনা বন্ধ করে ‌দিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি মোদী। যেমন মন্তব্য করেননি ট্রাম্পের দাবি মতো আমেরিকা থেকে বেশি করে তেল কেনা নিয়েও।

Advertisement
আরও পড়ুন