ইউক্রেনের রাজধানী কিভে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি। বুধবার রাত থেকে কিভে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া। ছবি: রয়টার্স।
জ্বালানি সঙ্কটের মাঝেও দমছে না রাশিয়া। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও বৃদ্ধি করল তারা। বুধবার রাত থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিভকে লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রুশ বাহিনী। হামলায় কিভে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। পাল্টা রাশিয়ার একটি তৈল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনও। তাতেও এক জন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বায়ুসেনা জানাচ্ছে, গত রাত থেকে অন্তত ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া। মস্কো যে কিভে হামলা করতে পারে, তা নিয়ে বুধবারই ইউক্রেনবাসীকে সাবধান করেছিলেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। প্রশাসনের ওই সতর্কবার্তার পরে অনেকেই বাড়ি ছেড়ে মেট্রো স্টেশনগুলিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। না হলে প্রাণহানি আরও বেশি হতে পারত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ়েলেনস্কি কিভবাসীকে সতর্ক করার কয়েক ঘণ্টা পরের হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। একের পর এক ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন আছড়ে পড়ে কিভে। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা সংস্থা জানিয়েছে, কিভের হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০টি বাড়ি। কিভের সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, হামলায় কমপক্ষে ৫৪ জন জখম হয়েছেন। তালিকায় দুই শিশুও রয়েছে।
অন্য দিকে, গত রাতে রাশিয়ার নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলের কস্তোভো শহরে একটি তৈল শোধনাগারে হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। তাদের দাবি, শোধনাগারের একটি মূল ইউনিটে হামলা হয়েছে। তবে তাতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। নিজনি নভগোরোদের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় এক জন নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন আরও চার জন। তবে শোধনাগারে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি রুশ প্রশাসন।
টানা চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে সম্প্রতি রাশিয়ার বিভিন্ন তৈল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। তার জেরে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে রাশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। তার মধ্যেও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জারি রেখেছে মস্কো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রুশ সামরিক কর্তাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।