পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। —ফাইল চিত্র।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বার বার বিঘ্ন ঘটছে পশ্চিম এশিয়ার বিমান পরিষেবায়। মঙ্গলবার ভোরে ফের সাময়িক ভাবে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। তার প্রভাব পড়ে উড়ান পরিষেবাতেও। যদিও কিছুক্ষণ বন্ধ রাখার পরে আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। বিমান পরিষেবাও ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে জানাচ্ছে রয়টার্স।
দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরি হয়ে রয়েছে। আমেরিকার বিভিন্ন ‘বন্ধুদেশ’-এর উপর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে ইরান। সোমবার রাতেও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা শুরু করে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই হামলার বেশির ভাগই প্রতিহত করেছে। তবে এই ড্রোন হামলা এবং সেগুলি প্রতিহত করতে জবাবি হামলার সময়ে সাময়িক ভাবে আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
সে দেশের অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষ জানান, ‘ব্যতিক্রমী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসাবেই আকাশসীমা সাময়িক ভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিমান ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভূখণ্ডকে রক্ষা করার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
সোমবারও ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে বিমানবন্দরের কাছেই ড্রোন হামলা হয়েছিল। জ্বালানির ট্যাঙ্কে ড্রোন ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আগুন ধরে যায়। ঘটনার জেরে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দুবাই বিমানবন্দর থেকে সমস্ত বিমানের ওঠানামা সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
তবে ওই হামলার সময়ে কোনও ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কোথাও আছড়ে পড়েছে কি না, তা প্রাথমিক ভাবে জানা যায়নি। কতগুলি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার আগেই ধ্বংস হয়েছে, তা-ও স্পষ্ট নয়। সিএনএন জানাচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শাহ গ্যাসক্ষেত্র দৈনন্দিন কার্যকলাপ আপাতত স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। আবুধাবি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রটি সে দেশের অন্যতম বড় গ্যাসক্ষেত্র। সিএনএন অনুযায়ী, ড্রোন হামলা শুরু হওয়ার পরেই সেখানে কাজকর্ম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।