রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা। ছবি: রয়টার্স।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধবিরতির মধ্যেই পারদ চড়ল ইউরোপে— রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে। বুধবার রাতে ইউক্রেন সেনার আড়াইশোর বেশি ড্রোন বাল্টিক সাগর, কৃষ্ণসাগর এবং আজ়ব সাগরের তীরবর্তী বিভিন্ন রুশ জনপদে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ায় সংবাদ সংস্থা তাসের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর তুয়াপসের আবাসিক অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দুই শিশু নিহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে রাশিয়া। তাদের নিশানায় ছিল, বেলগোরোদ, স্মোলেনস্ক, কুরস্ক, ব্রিয়ানস্ক, ওরিওল এবং ক্রাসনোদার। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কট যুঝতে এক মাসের জন্য রুশ তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে আমেরিকা। ওই অঞ্চলের বন্দরগুলি দিয়েই মূলত রাশিয়া থেকে তেল রফতানি করে। ফলে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে এর প্রভাব পড়তে পারে। রুশ তেল আসা কমলে শোধনাগারগুলি চাপে পড়বে।
অন্য দিকে, রুশ নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রাইমিয়ার গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ জানিয়েছেন, বুধাবর রাতে বন্দর শহর সেভাস্তোপোলের উপর ইউক্রেনীয় ড্রোনের ঝাঁক হামলা চালায়। রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৯টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে সামান্য সংঘর্ষের পরে দক্ষিণ ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ দখল করেছিল রুশ সেনা। পরে গণভোট করিয়ে ওই অংশকে রুশ ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়ে নিয়েছিল প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার। সামরিক দৃষ্টিতে ক্রাইমিয়ার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। সেখানকার কৃষ্ণসাগর উপকূলের সেবাস্তিপোল বন্দর শীতের সময়ও সচল থাকে। মূল রুশ ভূখণ্ডের কোনও বন্দরে সে সুবিধা নেই। সমুদ্র ভেসে আসা বরফের চাঁইয়ের কারণে বছরভর সেগুলি সচল রাখা সম্ভব নয়। সেই সামরিক অবস্থানগত গুরুত্বের কারণে এ বারের যুদ্ধের গোড়া থেকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জ়েলেনস্কির বাহিনী বারে বারে নিশানা করেছে ক্রাইমিয়াকে। ২০২৩ সালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ক্রাইমিয়ার সেবাস্তিপোল বন্দরে রুশ বাহিনীর মজুত তেলের ভান্ডার ধ্বংস করে দিয়েছিল ইউক্রেন সেনা।