Donald Trump-Volodymyr Zelenskyy Meeting

যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প-জ়েলেনস্কি চতুর্থ বৈঠক, কিসের সমাধান অগ্রাধিকার পাবে আলোচনায়?

গত এক বছরের মধ্যে এই নিয়ে চতুর্থ বার রাশিয়ার যুদ্ধবিরতি নিয়ে মুখোমুখি আলোচনায় বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৩
Ukraine’s President Volodymyr Zelenskiy arrived in Switzerland for talks with US President Donald Trump

(বাঁদিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভলোদিমির জ়েলেনস্কি (ডানদিকে)। —ফাইল চিত্র।

যুদ্ধবিরতির রফাসূত্রের খোঁজে আবার বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস, ফ্লরিডার পাম বিচের মার-এ-লাগো রিসর্টের পরে এ বার সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এ যোগ দিতে আসা দুই রাষ্ট্রনেতার পার্শ্ববৈঠকের ‘সাফল্যের সম্ভাবনা’ নিয়ে আলোচনা চলছে বিশ্ব জুড়ে।

Advertisement

দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের ফাঁকে আমেরিকার দূত স্টিভ উইটকফ বৃহস্পতিবার জানান, দুই রাষ্ট্রনেতার রাষ্ট্রনেতার বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য রাশিয়া-ইউক্রেন প্রসঙ্গে আলোচনা ও শান্তি ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, ‘‘শান্তিপ্রক্রিয়ার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এখন আলোচনার সাফল্য কেবল একটি শেষ বিষয়ের উপর নির্ভর করছে।’’ উইটকফ সরাসরি, ‘শেষ বিষয়’টি জানাননি। তবে তাঁর ইঙ্গিত, জ়েলেনস্কি যদি রুশ অধিগৃহীত অঞ্চলের উপর ইউক্রেনের দাবি থেকে সরে আসেন, তবে যুদ্ধবিরতি সম্ভব।

ঠিক ১১ মাস আগে গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন জ়েলেনস্কি। ক্যামেরার সামনেই তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়াতে দেখা গিয়েছিল ট্রাম্পকে। এর পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউস ছেড়ে বেরিয়ে যেতেও বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এর পরে ১৮ অগস্ট হোয়াইট হাউসে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন দুই রাষ্ট্রনেতা। সূত্রের খবর, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসাবে জ়েলেনস্কিকে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়ার পাশাপাশি পূর্ব দিকের ডনবাস অঞ্চল (ডনেৎস্ক এবং লুহান্সক এলাকাকে একত্রে এই নামে ডাকা হয়) পুরোপুরি রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু জ়েলেনস্কি তাতে রাজি হননি।

এর পরে ২৮ ডিসেম্বর ফ্লরিডায় হয়েছিল তৃতীয় বৈঠক। জ়েলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা শেষে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে ৯৫ শতাংশ সমঝোতা সম্পূর্ণ। যেটুকু বাকি, তার জন্য ইউরোপের দেশগুলি বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁও এর পর সমাজমাধ্যমে জানান, ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে কথাবার্তা এগিয়েছে। কিন্তু তার পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রুশ আগ্রাসন অব্যাহত। প্রসঙ্গত, ইউক্রেন ভূখণ্ডের অংশ হলেও ডনবাসের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দাই জাতিগত ভাবে রুশ। তাঁদের তৈরি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলি সক্রিয় ভাবে মস্কোর পক্ষে লড়াই করছে সেখানে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওই অঞ্চলকে পৃথক প্রজাতন্ত্র হিসাবেও ঘোষণা করেছিলেন দু’বছর আগে। গত এক বছর ধরেই ডনবাস অঞ্চলে সক্রিয় মস্কো-পন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলির সহায়তায় ইউক্রেন ফৌজের অবস্থানের উপর আকাশ ও স্থলপথে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে পুতিনের সেনা। পাশাপাশি, ধারাবাহিক ভাবে চলছে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ওই ভূখণ্ডের বড় অংশই এখন রাশিয়ার দখলে।

Advertisement
আরও পড়ুন