Iranian crown prince Reza Pahlavi

‘ইরানের মুক্তি চাই’, নির্বাসিত যুবরাজের সঙ্গে বৈঠক করে বার্তা জ়েলেনস্কির! এ বার কি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের শরিক ইউক্রেন?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার প্যারিসে নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ পাহলভির সঙ্গে আলোচনা করেন জ়েলেনস্কি। তার পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সমাজমাধ্যমে ইরানের ‘মুক্তিসংগ্রামে’ সহযোগী হওয়ার কথা জানান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৮
(বাঁ দিকে) ভলোদিমির জ়েলেনস্কি এবং রেজ়া পাহলভি (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ভলোদিমির জ়েলেনস্কি এবং রেজ়া পাহলভি (ডান দিকে)। ছবি: সমাজমাধ্যম থেকে নেওয়া।

ইরানের হামলা প্রতিরোধের জন্য পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিকে প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন আগেই। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি এ বার সরাসরি ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজ়া পাহলভির সঙ্গে বৈঠক করে ‘মুক্তির লড়াই’য়ে শরিক হওয়ার বার্তা দিলেন।

Advertisement

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে পাহলভির সঙ্গে আলোচনা করেন জ়েলেনস্কি। তার পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘ইরানের যুবরাজ এবং তাঁর দল আমাকে দেশের ভিতর থেকে পাওয়া বার্তা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব এবং পরিকাঠামোর ইতিমধ্যেই গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানি শাসকগোষ্ঠী কোণঠাসা হওয়ায় ইরানের জনগণের সামনে নিজেদের ভাগ্যনির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা আলোচনা করেছি কী ভাবে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং যৌথ প্রচেষ্টা ইরানি জনতার মুক্তি অর্জনে সহায়ক হতে পারে।’’

৬৫ বছর বয়সি পাহলভি বর্তমানে আমেরিকায় থাকেন। ১৯৭৯ সালে তেহরানে ইসলামিক বিপ্লবে তাঁর পিতা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগেই তিনি ইরান ছেড়েছিলেন। ইরানে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ-পর্বে ফেব্রুয়ারির গোড়ায় পাহলভির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন জ়েলেনস্কি। এক মাসের মধ্যে আবার দু’জনের সাক্ষাৎ হল। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, মূলত শাহিদ ড্রোন ব্যবহার করেই ইরান ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ হামলা চালাচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে। গত চার বছর ধরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার ফৌজও ইরানের তৈরি ওই ড্রোন ব্যবহার করছে।

জ়েলেনস্কি বলেছিলেন, ‘‘সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনকে আমি জানিয়েছি, ইউক্রেন প্রযুক্তিগত সহায়তায় প্রস্তুত। সকলেই স্বীকার করে, বিশ্বের আর কোনও দেশের এই বিষয়ে (শাহিদ ড্রোনের মোকাবিলা) অভিজ্ঞতা নেই।’’ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর ইজ়রায়েল ও আমেরিকার বিমান হামলার (যার পোশাকি নাম যথাক্রমে ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’) এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর জবাবে ধারাবাহিক ভাবে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার মিত্রদেশগুলিকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম ইন্টারসেপ্টর (মাঝপথে আটকে দেওয়া) ড্রোনের চাহিদা বেড়েছে। ইউক্রেন পশ্চিম এশিয়ায় ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং প্রযুক্তি রফতানি করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিলেন জ়েলেনস্কি।

Advertisement
আরও পড়ুন