(বাঁ দিকে) ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করা রায়ান রুথ এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই রায়ান ওয়েসলি রুথকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আমেরিকার আদালত। বুধবার আদালত সাজা ঘোষণার সময়ে এজলাসেই উপস্থিত ছিলেন তিনি। এজলাস ছাড়ার আগে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে চোখ মারেন রায়ান। হাসেনও।
২০২৪ সালের নভেম্বরে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনের আগে অন্তত দু’বার ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রথম চেষ্টা হয় ওই বছরের জুলাইয়ে পেনসেলভেনিয়ায়। ট্রাম্পের কান ছুঁয়ে গুলি বেরিয়ে যায়। ওই হত্যার চেষ্টায় অভিযুক্ত টমাস ম্যাথিউ ক্রুকস আগেই নিহত হয়েছেন। পেনসেলভেনিয়ায় ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরে, ওই বছরেরই সেপ্টেম্বরে ফের ট্রাম্পের উপর হামলার চেষ্টা হয়। দ্বিতীয় চেষ্টা হয় ফ্লোরিডার গল্ফ কোর্সে। ফ্লোরিডার ঘটনায় ধরা পড়েন রায়ান। গত সেপ্টেম্বরেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এ বার রায়ানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিল আমেরিকার আদালত।
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচের ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গল্ফ ক্লাবে ওই হত্যার ছক কষা হয়েছিল। গল্ফ কোর্সের আশপাশে গুলি চালানোর শব্দ শুনেছিলেন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা। তার পরেই সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী (তখনও নির্বাচন হয়নি) ট্রাম্পকে। ওই সময়েই গল্ফ কোর্সের একটি ঝোপের ভিতর থেকে রাইফেলের নল বেরিয়ে থাকতে দেখেন সিক্রেট সার্ভিসের এক এজেন্ট। তিনি সে দিকে গুলি চালাতেই ঝোপের ভিতর থেকে রাইফেলধারী রায়ান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় একটি একে-৪৭ রাইফেল। দু’টি ব্যাগও। তত ক্ষণে রায়ান নিজের গাড়িতে উঠে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। প্রায় আধ ঘণ্টা ধাওয়া করার পরে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার আগে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে গল্ফ কোর্স সংলগ্ন এলাকাতেই ছিলেন রায়ান। তিনি ট্রাম্পের ওই সময়ের সমাবেশ এবং পাম বিচের ট্র্যাফিক ক্যামেরার বিষয়ে খোঁজখবর করছিলেন, এমন তথ্যপ্রমাণও পাওয়া যায়। গ্রেফতারির পরে জবানবন্দিতে রায়ান দাবি করেন, “আমি নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম।” তাঁর ব্যর্থ কাজ কেউ সম্পন্ন করতে পারলে তাঁকে দেড় লক্ষ ডলার পুরস্কার দেবেন, এমন দাবিও তিনি করেছিলেন জবানবন্দিতে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে রায় ঘোষণার পরে এজলাসেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন রায়ান। নিজের গলায় পেনের নিব গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ধরে ফেলেন এজলাসে উপস্থিত মার্শালেরা।