US-Iran Conflict

ভারতকে কেন রাশিয়ার তেল কেনার ‘অনুমতি’ দিয়েছে আমেরিকা? বিতর্কের মধ্যে ব্যাখ্যা করল ট্রাম্প প্রশাসন

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সরু হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ২৩:১৭
US defends allowing India buy Russian oil amid Iran war

(বাঁ দিক থেকে) নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

দিন চারেক আগেই বিশ্বে অশোধিত তেলের বাজারকে চাঙ্গা করতে রুশ-নীতি নমনীয় করার ইঙ্গিত দিয়েছিল আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ‘ছাড়’ দেওয়া হয়েছে ভারতকে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পর আমেরিকার মধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়ে মার্কিন প্রশাসন। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য যে রাশিয়ার তেলের বাজার বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তাকেই আবার ছাড়! যদিও মার্কিন প্রশাসন জানাল, কেন তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Advertisement

সংবাদসংস্থা এপি সূত্রে খবর, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই রাশিয়ার তেল কেনায় ‘ছাড়’ দেওয়া হয়েছে ভারতকে। আমেরিকার জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট বলেন, ‘‘চিনে যাওয়ার কথা ছিল রাশিয়ার তৈলজাহাজগুলির। কিন্তু তার জন্য অন্তত ছ’সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। তার পরিবর্তে ওই তেল যদি ভারতের তৈলশোধনাগারগুলিতে পাঠানো যায়, তবে তেলের ঘাটতি কমবে। এ ছাড়াও, তেলের দাম বৃদ্ধি, ঘাটতি নিয়ে যে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা পাল্টাবে বলে আমার মনে হয়।’’

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সরু হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। প্রতি দিন গোটা বিশ্বে যত তেল রফতানি হয়, তার ২০ শতাংশই যায় এই হরমুজ় প্রণালী হয়ে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় প্রণালীর দুই ধারে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন দেশের অসংখ্য জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাঙ্কার। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে। ইরানের অবরোধের ফলে ভারতের তেলের বাজারে জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই আবহে আমেরিকা জানায়, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ‘ছাড়’ দেয় ভারতকে। তবে ‘শর্ত’ একটিই। তা হল, এই ছাড় কেবল সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলের ট্যাঙ্কার বা জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন