US Iran Conflict

ইরানে দীর্ঘ সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে মার্কিন বাহিনী! শুধু নির্দেশের অপেক্ষা, চুক্তি না হলেই যুদ্ধ? ইঙ্গিত ট্রাম্পেরও

ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে মার্কিন বাহিনীর অভিযান। সে ভাবেই সেনার প্রস্তুতি চলছে। এমন ভাবে বাহিনীকে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই তৎক্ষণাৎ কার্যকর করা যায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৩
পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন রণতরী মোতায়েন করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন রণতরী মোতায়েন করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পারমাণবিক কার্যকলাপ নিয়ে যদি আমেরিকার সঙ্গে ইরানের দ্রুত চুক্তি না-হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে আরও এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সাক্ষী থাকবে বিশ্ব। এমনটাই ইঙ্গিত মিলল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায়। তিনি আরও একটি মার্কিন রণতরী পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রে মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাফ জানিয়েছেন, চুক্তি না-হলে ওই রণতরী কাজে লাগতে পারে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানে দীর্ঘ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই তারা হামলা চালাতে পারে।

Advertisement

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সিনিয়র মার্কিন আধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে মার্কিন বাহিনীর অভিযান। অন্তত সে ভাবেই সেনার প্রস্তুতি চলছে। এমন ভাবে বাহিনীকে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই তৎক্ষণাৎ তা কার্যকর করা যায়। বাড়তি সময় যাতে না লাগে। যদিও তেমন কোনও নির্দেশ যে আসবেই, তার নিশ্চয়তা নেই। কূটনীতির মাধ্যমেই তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা চায় ওয়াশিংটন, দাবি ওই আধিকারিকদের। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় আপাতত এর চেয়ে বেশি কিছু তাঁরা বলতে চাননি।

ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি আমেরিকার। দাবি, গোপনে পরমাণু বোমা তৈরি করছে তেহরান। যদিও ইরান সেই দাবি মানতে চায় না। গত সপ্তাহে আমেরিকা এবং ইরানের কূটনীতিবিদেরা ওমানে আলোচনায় বসেছিলেন। তাতে সমাধানসূত্র বেরোয়নি। ইতিমধ্যে ইরানের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন মোতায়েন করেছেন ট্রাম্প। শুক্রবার জানা যায়, দ্বিতীয় রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ডকেও পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। ওই রণতরী এত দিন ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাছে মোতায়েন ছিল। একে ইরানের উপর চাপ বৃদ্ধির কৌশল হিসাবেই দেখছেন ভূরাজনীতিবিদেরা। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘জেরাল্ড শীঘ্রই পশ্চিম এশিয়ার জন্য রওনা দেবে। যদি আমাদের মধ্যে চুক্তি না-হয়, তবে ওই রণতরী দরকার হতে পারে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি কঠিন হচ্ছে। কখনও কখনও ভয় দেখাতে হয়। তা হলেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়।’’

ইরানে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবশ্য কিছু বলেননি ট্রাম্প। প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘‘ইরানকে নিয়ে সবরকম বিকল্পই খতিয়ে দেখছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যে কোনও বিষয়ে উনি অনেক ধরনের মতামত শোনেন। তার পর আমাদের দেশ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নেন।’’ আমেরিকার কোনও হুমকির কাছে মাথা নত করবে না, জানিয়ে দিয়েছে ইরান। বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পশ্চিমি শক্তির হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার যে কোনও সামরিক পদক্ষেপকে যুদ্ধ হিসাবে দেখবে এবং উপযুক্ত প্রত্যাঘাত করবে, জানিয়েছে তেহরান।

Advertisement
আরও পড়ুন