এ বার যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটল ইজ়রায়েল এবং ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা। মার্কিন প্রশাসনের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে যুদ্ধবিরতির কথা জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। জানানো হয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৪টেয় (স্থানীয় সময়) থেকে ইজ়রায়েল এবং হিজ়বুল্লার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
মার্কিন ওই কর্তার বলেছেন, ‘‘হিজ়বুল্লা এবং ইজ়রায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।’’ ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরেও হিজ়বুল্লা এবং লেবানন নিয়ে সুর চড়িয়ে রেখেছিলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর সরকারের। ইরান-আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকলেও বিগত কয়েক দিনে বার বার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে লেবানন।
লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা করেন নেতানিয়াহু। তাঁর এই ঘোষণা এবং লেবাননে পর পর হামলা শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছিল, ইজ়রায়েল যদি লেবাননে হামলা বন্ধ না-করে তবে কোনও ভাবেই তারা শান্তির পথে হাঁটবে না। জোরালো প্রত্যাঘাত করবে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নেতানিয়াহুর মন্তব্য এবং লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখায় প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশও করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই টালবাহানার মধ্যেই বৃহস্পতিবার আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
তবে তার পরেও অশান্ত ছিল লেবানন। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে ‘তোয়াক্কা’ না করেই লেবাননে হামলা চালায় ইজ়রায়েল। রাতভর হামলা চালানো হয় লেবাননের বেশ কিছু অঞ্চলে। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৮ জনের। আহত আরও অনেকে। ইজ়রায়েল সেনা আইডিএফের তরফে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজ়বুল্লার (ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী) বেশ কয়েকটি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে তারা। প্রাণঘাতী এই হামলার পর ইরান-আমেরিকার শান্তিচুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কারণ সমঝোতাপত্রে বলা হয়েছে যে, ইরান এবং তার সহযোগী সমস্ত দলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে লেবাননও। সেই শর্তে আমেরিকা রাজিও হয়েছে। তার পরে ইজ়রায়েলের হামলা ট্রাম্পের ভূমিকাই প্রশ্নের মুখে ফেলে। সেই নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই আমেরিকার পক্ষ থেকে ইজ়রায়েল এবং হিজ়বুল্লার মধ্যে সংঘর্ষবিরতির কথা জানানো হল।
প্রসঙ্গত, সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের পরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘‘আমি আশা করছি যে, এই সমঝোতাপত্র মেনে ইরান এবং তাদের সহযোগী দলগুলির বিরুদ্ধে কোনও ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হবে না। এমনকি ইজ়রায়েলেও হামলা চালানো হবে না। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখতে সকলকে সব রকম অভিযান থেকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’’ তবে বৃহস্পতিবার রাতভর লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলার কারণে নতুন করে পশ্চিম এশিয়া অশান্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়। অনেকের মতে, শেষপর্যন্ত ইজ়রায়েল এবং হিজ়বুল্লার মধ্যে সংঘর্ষবিরতি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব জুড়ে শান্তি ফিরবে।