মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
তিনি আর ‘ভালমানুষি’ করবেন না। ইরানের উদ্দেশে ফের একবার সেই হুঁশিয়ারিই দিয়ে রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৃত্রিম মেধার (এআই) সাহায্যে তৈরি নিজের একটি ছবি বুধবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি যুদ্ধক্ষেত্রে কালো স্যুট, কালো রোদচশমা পরে রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। লেখা, “আর ভালমানুষি নয়!”
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ঘিরে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কবে ওই বৈঠক হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ অবস্থায় সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্পের এই পোস্ট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ওই পোস্টের সঙ্গেই তিনি লেখেছেন, “ইরান নিজেদের গুছিয়েই উঠতে পারছে না। ওরা জানেই না কী ভাবে একটা অ-পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করতে হয়। ওদের উচিত দ্রুত নিজেদের বোধবুদ্ধির পরিচয় দেওয়া।”
এই পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানকে বিঁধে আরও একটি পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরান ‘ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দোরগোড়ায়’ দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের আরও দাবি, ইরান নিজেদের নেতৃত্ব-সঙ্কট সামাল দেওয়ার জন্যই চাইছে, আমেরিকা যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ় প্রণালী খুলে দিক। এ বার কৃত্রিম মেধার সাহায্যে নিজের রাইফেলধারী ছবি বানিয়ে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে পোস্ট করায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইতিমধ্যে তিন দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তার মধ্যে অন্যতম— তারা হরমুজ়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক করতে চায়। কিন্তু পরমাণু সংক্রান্ত আলোচনা এখনই শুরু করতে চায় না। তবে ইরানের পাঠানো তিন দফা প্রস্তাবে আমেরিকার যে বিশেষ সায় নেই, তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল।
দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে অচলাবস্থার মাঝেই ট্রাম্প প্রথমে জানিয়েছিলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে তিনি এই বৈঠকের জন্য পাঠাবেন না। পরিবর্তে দুই মার্কিন কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ওই শান্তিবৈঠকে থাকবেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন— তিনি কাউকেই পাকিস্তানে পাঠাচ্ছেন না। ট্রাম্প বলেন, “আলোচনার জন্য ওদের কাছে কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। আলোচনার কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই পাকিস্তানে যাওয়াটাও অত্যন্ত ব্যয়বহুল।”