ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এ বার তেহরানকে নতুন বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানানোর পাশাপাশি ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলের খনি এবং খার্গ দ্বীপ ধ্বংস হুমকি দিয়েছেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘ইরানে আমাদের সামরিক অভিযান শেষ করার জন্য একটি নতুন, এবং আরও যুক্তিসঙ্গত এবং গভীর আলোচনা চলছে। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হয়েছে। কিন্তু যদি কোনও কারণে খুব শীঘ্রই একটি চুক্তি না-হয়, যা সম্ভবত হবে এবং যদি হরমুজ় প্রণালী অবিলম্বে ‘বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত’ না-করা হয়, তবে আমরা ইরানে আমাদের ‘নরম উপস্থিতিতে’ ইতি টানব। তাদের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলের খনি এবং খার্গ দ্বীপ (এবং সম্ভবত সমস্ত লবণাক্ততা অপসারণ কেন্দ্রও!) উড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করে দেব।’’
ট্রাম্পের দাবি, এখনও পর্যন্ত আমেরিকা ইচ্ছাকৃত ভাবেই এখনও ওই লক্ষ্যগুলি ‘স্পর্শ’ করেনি। কিন্তু যদি চুক্তি না হয় এবং হমমুজ় অবরোধে তেহরান অনড় থাকে তবে সর্বাত্মক হামলা চালানোর কথা জানিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমাদের সেনারা প্রতিশোধ নেবে।’’ যদিও এর আগে ইরানের প্রধান তৈলভন্ডার খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওই দ্বীপের সামরিক ঘাঁটিগুলি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। তবে তেলের ভান্ডারে এখনও হাত দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছিলেন তিনি। গত কয়েক দিন ধরেই একাধিক রিপোর্টে দাবি, ইরানে স্থলপথে অভিযানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ওয়াশিংটন।
দিন কয়েক আগেই আগেই প্রায় সাড়ে তিন হাজারের সৈন্য নিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে আমেরিকার রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলি। সামরিক পরিভাষায় ‘অ্যাম্ফিবিয়ান অ্যাসল্ট শিপ’ নামে পরিচিত এই উভচর সামরিক যান গভীর জলের পাশাপাশি উপকূলের অগভীর জলে সমান দক্ষতায় যাতায়াত করতে সক্ষম। যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে এমন উভচর যান থেকেই পদাতিক (ইনফ্যান্ট্রি), গোলন্দাজ (আর্টিলারি) এবং ট্যাঙ্ক (আর্মার্ড) ব্রিগেডগুলি স্থলভূমিতে অবতরণ করে। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন বাহিনী পারস্য এবং ওমান উপসাগরের পথে ইরানে গ্রাউন্ড অপারেশন শুরু করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। অপারেশন এপিক ফিউরির নতুন অধ্যায় ঘিরে জল্পনার মধ্যেই রবিবার ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “সত্যি বলতে, আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হল ইরানের তেল দখল করা!’’