গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকা নয়, ডেনমার্ককেই বেছে নিয়েছে গ্রিনল্যান্ড। ওই দ্বীপের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নেলসন জানান, তাঁরা ডেনমার্কের সঙ্গে থাকতেই পছন্দ করবেন! এ হেন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, এর জন্য ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে গ্রিনল্যান্ডকে। শুধু তা-ই নয়, একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি অব্যাহত রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তাদের গ্রিনল্যান্ডের দখল নেওয়া প্রয়োজন। এর ফলে মেরু অঞ্চলও সুরক্ষিত থাকবে বলে দাবি হোয়াইট হাউসের। ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর আবার একই দাবিতে জোর দেন ট্রাম্প। তার পর থেকে বার কয়েক একই কথা শোনা গিয়েছে তাঁর কণ্ঠে।
এ হেন পরিস্থিতিতে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসনের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে নেলসন বলেন, ‘‘আমরা এখন ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি। যদি এখন আমাদের আমেরিকা এবং ডেনমার্কের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে বলা হয়, আমরা ডেনমার্ককে প্রাধান্য দেব।’’ তিনি এ-ও ইঙ্গিত দেন, আপাতত গ্রিনল্যান্ড স্বাধীনতার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসছে।
বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ড্যানিশ এবং গ্রিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রীদের। তার আগে গ্রিনল্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য শোরগোল ফেলেছে। তিনি এ-ও জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর! তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করে বলেন, ‘‘এটা ওদের সমস্যা। আমি একমত নই।’’ তিনি এ-ও জানান, গ্রিনল্যান্ড প্রধানমন্ত্রীকে তিনি চেনেন না। তবে ডেনমার্কের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তে গ্রিনল্যান্ডকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে!
ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৫৬ হাজার জনসংখ্যার ‘বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ’ প্রায় ৩০০ বছর ধরে কোপেনহাগেন (ডেনমার্কের রাজধানী)-এর নিয়ন্ত্রণে। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিচালনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ পালন করেন। আর বিদেশ এবং প্রতিরক্ষানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি নেয় ডেনমার্ক সরকার।