US on Afghanistan Pakistan Clash

আফগান-পাক সংঘাত নিয়ে মুখ খুলল আমেরিকা, ইসলামাবাদের ‘যুদ্ধ’ ঘোষণায় সমর্থন, কাবুলকে পাল্টা বার্তা! সমঝোতা কি হবে

তালিবান আমেরিকার খাতায় ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী। মার্কিন সেনার সঙ্গে দীর্ঘ দিন তারা লড়াই করেছে। তাদের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সংঘাত নিয়ে মুখ খুলল আমেরিকা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৬
(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সংঘর্ষ নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল আমেরিকা। ইতিমধ্যে একাধিক দেশ এই সংঘর্ষ থামানোর আর্জি জানিয়েছে। তবে আমেরিকা তার ধার দিয়েও গেল না। বরং পাকিস্তানের ‘যুদ্ধ’ ঘোষণাকে সমর্থন করে বিবৃতি দিল মার্কিন বিদেশ দফতর। সেই সঙ্গে পাল্টা বার্তা দেওয়া হল আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকেও।

Advertisement

তালিবান আমেরিকার খাতায় ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী। মার্কিন সেনার সঙ্গে দীর্ঘ দিন তারা লড়াই করেছে। ২০২১ সালে তাদের হাতেই আফগানিস্তানের দায়িত্ব তুলে দিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে আমেরিকাকে। সেই তালিবানকে নতুন বিবৃতিতেও সন্ত্রাসবাদী বলেই উল্লেখ করল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সঙ্গে জানাল, আফগানদের ঠেকাতে পাকিস্তান সরকার যে নীতি গ্রহণ করেছে, আমেরিকা তা সমর্থন করে।

মার্কিন বিদেশ দফতর শুক্রবার ইমেল মারফত একটি বিবৃতি জারি করেছে। তাতে লেখা হয়েছে, ‘‘তালিবান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসাবে বিশেষ ভাবে চিহ্নিত। তাদের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার পাকিস্তানের আছে। আমেরিকা সেই আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে।’’ এ ছাড়াও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে আমেরিকা ওয়াকিবহাল। কী ভাবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্রম অবনতি হল, উত্তেজনা কী ভাবে বাড়ল, আমেরিকা সেই খবর রেখেছে। এর ফলে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, আমেরিকার সরকার তাঁদের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে। তালিবানকে পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে মার্কিন বিদেশ দফতর বলেছে, ‘‘সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বার বার ব্যর্থ হয়েছে তালিবান। এই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আফগানিস্তানের মাটিকে জঘন্য সব হামলার লঞ্চিং প্যাড (উৎস) হিসাবে ব্যবহার করে।’’ পাকিস্তানের বিদেশসচিব আমনা বালোচের সঙ্গে কথা বলেছেন আমেরিকার কূটনীতিবিদ অ্যালিসন হুকার।

পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দেশ। আফগানিস্তানে বিমানহানার প্রতিশোধ নিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেখানকার তালিবান সরকার পাক সীমান্তে হামলা শুরু করে। তার জবাব দেয় পাকিস্তানের বাহিনীও। দু’পক্ষের সংঘর্ষে সীমান্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুক্রবার সকালে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী খোয়াজা আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সেই থেকে সংঘাত চলছে। ইরান, চিন এই সংঘাত থামাতে অনুরোধ করেছে দু’পক্ষকেই। মধ্যস্থতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাকিস্তান এর মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গেও পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছে। দু’পক্ষেই বহু প্রাণহানি হয়েছে বলে খবর। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে পর পর পাক হামলার পর তালিবান সরকার সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে। পাক সরকারের দাবি, তাদের হামলায় এখনও পর্যন্ত তালিবানের ৮৯টি ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। নিহত ২৯৭ জন আফগান তালিবান। যদিও এত মানুষের মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছে তালিবান।

Advertisement
আরও পড়ুন