Iran-US Conflict

ইরানের সস্তা ড্রোন শাহেদ-১৩৬ ‘কপি’ করে ইরানের বিরুদ্ধেই আক্রমণ! ‘লুকাস’কে এই প্রথম বার কাজে লাগাল আমেরিকা

সূত্রের খবর, এই ড্রোন মূলত পরিচালনা করে মার্কিন বাহিনীর স্করপিয়ন স্ট্রাইক। এটি কামিকাজ়ে ড্রোনের প্রথম ইউনিট। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর এই ড্রোন ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ১৩:১৭
ইরানের বিরুদ্ধে ‘লুকাস’ ড্রোন ব্যবহার আমেরিকার। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের বিরুদ্ধে ‘লুকাস’ ড্রোন ব্যবহার আমেরিকার। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ‘লুকাস’ ড্রোনকে প্রথম বার কাজে লাগাল আমেরিকা। ঘটনাচক্রে, যে ‘লুকাস’ ড্রোনকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে আমেরিকা, সেই ড্রোনটি ইরানেরই ঘাতক ড্রোন ‘শাহেদ ১৩৬’- এর আদলে তৈরি। ইরানের সেই প্রযুক্তি ‘নকল’ করে আমেরিকাও বানিয়ে ফেলে সস্তার ড্রোন। প্রসঙ্গত, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পেন্টাগন ঘোষণা করেছিল, তারা ইরানের ড্রোন ‘কপি’ করেছে। একই সঙ্গে সেই ড্রোনকে আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করে ইরানের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করবে। শনিবার ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হতেই সেই ড্রোনকে ব্যবহার করল আমেরিকা।

Advertisement

সূত্রের খবর, এই ড্রোন মূলত পরিচালনা করে মার্কিন বাহিনীর স্করপিয়ন স্ট্রাইক। এটি কামিকাজ়ে ড্রোনের প্রথম ইউনিট। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর এই ড্রোন ইউনিট মোতায়েন করা হয়। ইরানের সঙ্গে সুইৎজ়ারল্যান্ডের বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরই নতুন করে সামরিক সংঘাতের একটি আবহ তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরই পেন্টাগন ঘোষণা করে, যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে ইরানের অস্ত্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে।

তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিল আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়ায় পাঁচশোর বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা, যুদ্ধবিমান বহনক্ষম রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ওই অঞ্চলে মোতায়েন করার পরেও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা আর এক রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড ফোর্ডকেও পাঠানো হয় পশ্চিম এশিয়ায়। তখন থেকেই জল্পনা জোরালো হতে শুরু করে, তা হলে কি খুব শীঘ্রই আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামতে চলেছে আমেরিকা? সেই জল্পনা অবশেষে সত্যি হল।

ইরানের বিরুদ্ধে একযোগে সামরিক সংঘাতে নামল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। সূত্রের খবর, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে আমেরিকা। শুধু টমাহক-ই নয়, ‘বাঙ্কার বাস্টার’-এর মতো ১৪ হাজার কেজির বোমাও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে তারা প্রথম ব্যবহার করছে ‘লুকাস’ ড্রোন। পুরো নাম ‘লো-কস্ট আনম্যান্‌ড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম’। অর্থাৎ সস্তার ঘাতক ড্রোন। আমেরিকার টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক এই ড্রোন পরিচালনা করেন। ইরানের ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনকে নকল করে ঘাতক এই ড্রোন বানিয়েছে আমেরিকা। এই ড্রোনের নির্মাণকারী সংস্থা অ্যারিজ়োনার ‘স্পেকট্রেওয়ার্কস’। এক একটি ড্রোনের দাম ৩৫ হাজার ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ২৯ লক্ষ টাকা)। এই ড্রোনে রয়েছে জিপিএস-ডিয়ানেড নেভিগেশন ব্যবস্থা। একসঙ্গে ৪০টির একটি ঝাঁক একতরফা ভাবে হামলা চালাতে সক্ষম। এক একটি ড্রোন ১৮ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে। মূলত শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, সেনাঘাঁটি, কোনও গুরুত্বপূর্ণ ইমারতে হামলা চালাতে এই ড্রোনের ব্যবহার করা হয়। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার কাছেও এই ‘লুকাস’ ড্রোন আছে। ইউক্রেনে হামলা চালাতে এই ড্রোনকে কাজে লাগিয়েছিল রাশিয়া।

Advertisement
আরও পড়ুন