পশ্চিম এশিয়ায় রওনা দিয়েছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলি। ছবি: রয়টার্স।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামার আগেই পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সেনাঘাঁটিগুলিতে যুদ্ধবিমান, সেনা মোতায়েন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, ওই অঞ্চলে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন আগে থেকেই মোতায়েন ছিল। পরে আরও এক রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডকে পাঠানো হয়। ঘটনাচক্রে, তার কয়েক দিন পরেই ইরানে সামরিক অভিযানে নামে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। মার্কিন প্রশাসনের এক সূত্রের দাবি, এ বার আরও এক রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলিকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা জোরালো হতে শুরু করেছে, তা হলে কি আকাশপথের পাশাপাশি এ বার সমুদ্রপথেও হামলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করল আমেরিকা?
ইউএসএস ত্রিপোলি ‘অ্যাম্ফিবিয়ান অ্যাসল্ট’ রণতরী। এটিকে ‘লাইটনিং ক্যারিয়ার’ও বলা হয়ে থাকে। সূত্রের খবর, ২৫০০ নৌসেনা, এফ-৩৫ বি যুদ্ধবিমান নিয়ে এই রণতরী জাপান থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। উপগ্রহচিত্র বলছে, এই রণতরী তাইল্যান্ড এবং ফিলিপিন্সের মাঝে রয়েছে। ইউএসএস ত্রিপোলির ওজন ৪৫ হাজার টন। দৈর্ঘ্য ৮৪৪ ফুট। এই রণতরীতে মোতায়েন রয়েছে এফ-৩৫বি লাইটনিং স্টেল্থ যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধবিমানে প্রিসিশন গাইডেড সমরাস্ত্র রয়েছে। শত্রুপক্ষের রেডারে সহজে ধরা পড়ে না। এটি মার্কিন নৌসেনার অন্যতম ঘাতক যুদ্ধবিমান। রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলি সমুদ্র থেকে স্থলে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়। এই রণতরী ২০-৩০টি যুদ্ধবিমান বহন করতে সক্ষম। এই রণতরীতে মোতায়েন রয়েছে কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট, স্টেল্থ যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার যুদ্ধবিমান।
প্রসঙ্গত, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল একযোগে সামরিক অভিযানে নামে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তেহরানে একের পর এক বোমাবর্ষণ করে দুই দেশ। সেই হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। নিহত হন ইরান সেনার কয়েক জন কর্তাও। তার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত চরমে। আমেরিকা ‘ঘনিষ্ঠ’ উপসাগরীয় দেশগুলিতে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু হামলা চালায় ইরান। পাল্টা হামলা জারি রেখেছে আমেরিকাও। শনিবার সকালে ইরানের খার্গ দ্বীপে জোরালো হামলা চালায় আমেরিকা। তার পরই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের দিন ঘনিয়ে এসেছে। ওদের শেষ দেখে ছাড়ব। পাল্টা ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঙ্কার দিয়েছে, আমেরিকা যদি হামলা বন্ধ না করে, তা হলে এ বার তাদের তৈলভান্ডারগুলি মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হবে।