Ayatollah Ali Khamenei

খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ ধর্মীয় নেতা এ বার ইরানের সর্বোচ্চ অন্তর্বর্তী কাউন্সিলে! কে এই আরাফি, কী ভূমিকা থাকবে তেহরান শাসনে?

খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অন্যতম ধর্মীয় নেতা হিসাবে বিবেচনা করা হয় তাঁকে। এখন ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্‌স’-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। বস্তুত, এই কমিটিই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে নিয়োগ করে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ২০:৩৭
ইরানের ধর্মীয় নেতা আলিরেজা আরাফি।

ইরানের ধর্মীয় নেতা আলিরেজা আরাফি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশ শাসনে একটি কমিটি গড়েছে ইরান। সেই কমিটিতে বসানো হয়েছে খামেনেই ঘনিষ্ঠ আলিরেজা আরাফিকে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে না-নেওয়া পর্যন্ত ইরানের দায়িত্ব থাকবে এই কমিটির হাতে। আর কমিটির সদস্য হিসাবে ৬৭ বছর বয়সি এই ধর্মীয় নেতার নিয়োগ ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। ভবিষ্যতে কি তিনিই হবেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা?

Advertisement

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পরই ইরানের সংবিধান অনুযায়ী একটি কাউন্সিল গঠিত হয়েছে। তিন সদস্যের ওই কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য করা হয়েছে খামেনেই ঘনিষ্ঠ এই ধর্মীয় নেতাকে। অপর দুই সদস্য হলেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মোহসেনি। নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বাছাই না-হওয়া পর্যন্ত এই তিন সদস্যের কাউন্সিলই আপাতত সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকবে।

খামেনেই বা তাঁর আগে আলি খোমেনেই— উভয়েই ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। এই পদে বরাবরই ধর্মীয় নেতাদেরই প্রভাব বেশি দেখা গিয়েছে অতীতে। এত দিন খামেনেই একা যে পদে ছিলেন, এখন তিন জনকে নিয়ে সেই পদ পরিচালিত হবে। তবে এই তিন জনের মধ্যে একমাত্র ধর্মীয় নেতা। ফলে তিন সদস্যের কাউন্সিলে তাঁর প্রভাবই বেশি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে খামেনেইয়ের উত্তরসূরি হিসাবে এক সময়ে তাঁর নাম নিয়েও বিস্তর আলোচনা চলেছিল। খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অন্যতম ধর্মীয় নেতা হিসাবে বিবেচনা করা হয় তাঁকে। এখন ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্‌স’-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। বস্তুত, এই কমিটিই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে নিয়োগ করে। এর আগে ইরানের প্রভাবশালী ‘গার্ডিয়ান কমিটি’রও সদস্য ছিলেন আরাফি। ইরানের নির্বাচনে প্রার্থীদের বাছাই প্রক্রিয়া এবং সে দেশের পার্লামেন্টে পাশ হওয়া কোনও আইন পর্যালোচনার দায়িত্ব থাকে এই গার্ডিয়ান কমিটির উপরে। পাশাপাশি ইরানের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থারও প্রধান হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আরাফি।

খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ এবং ইরানের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় নেতা হলেও রাজনৈতিক স্তরে তাঁকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয়নি অতীতে। ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গেও তাঁর খুব বেশি ঘনিষ্ঠতার কথা শোনা যায় না। নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বাছাই না-হওয়া পর্যন্ত আরাফি, পেজ়েশকিয়ান এবং মোহসেনিকে নিয়ে গঠিত এই অন্তর্বর্তী কমিটির হাতেই থাকবে ইরান পরিচালনার দায়িত্ব।

Advertisement
আরও পড়ুন