US Immigration Controversy in Minnesota

মিনেসোটায় হত মার্কিন নাগরিক ছিলেন আইসিইউ কর্মী! ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ধোপে টিকছে না, অন্য কথা বলছে ভিডিয়ো

গত পাঁচ বছর ধরে মিনিয়াপোলিসের হাসপাতালে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীনদের দেখাশোনা করতেন অ্যালেক্স। মূলত বয়স্ক রোগীদের সেবা করাই ছিল তাঁর দায়িত্ব। অভিবাসন দফতরের কর্মীর গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৭
আমেরিকায় অভিবাসন দফতরের গুলিতে নিহত মার্কিন যুবক অ্যালেক্স প্রেটি।

আমেরিকায় অভিবাসন দফতরের গুলিতে নিহত মার্কিন যুবক অ্যালেক্স প্রেটি। ছবি: সংগৃহীত।

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস শহরে মার্কিন অভিবাসন দফতরের কর্মীর গুলিতে নিহত যুবক অ্যালেক্স প্রেটি আমেরিকারই নাগরিক ছিলেন। অভিবাসী নন। তিনি শহরের একটি হাসপাতালের আইসিইউ-তে কাজ করতেন। পেশায় নার্স ৩৭ বছরের এই যুবকের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর বাবা-মা। প্রশাসন এই হত্যার যে ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তাকে ‘অসহ্য মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। এমনকি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দাবির সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ভিডিয়ো মিলছে না। সমালোচনার ঝড় বইছে।

Advertisement

গত পাঁচ বছর ধরে মিনিয়াপোলিসের হাসপাতালে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীনদের দেখাশোনা করতেন অ্যালেক্স। মূলত বয়স্ক রোগীদের সেবা করাই ছিল তাঁর দায়িত্ব। বন্ধু এবং পরিজনেরা জানাচ্ছেন, অ্যালেক্স নরম মনের শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। মিনিয়াপোলিসে মার্কিন অভিবাসন দফতরের অভিযান তিনি মেনে নিতে পারেননি। কিছু দিন আগে আধিকারিকদের গুলিতে এক জনের মৃত্যু হলে অ্যালেক্স প্রতিবাদে পথে নামার সিদ্ধান্ত নেন। এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত বয়স্ক রোগীদের মৃত্যু কী ভাবে ঠেকানো যায়, তা নিয়ে গবেষণাও করছিলেন অ্যালেক্স।

সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ চলাকালীন অ্যালেক্সদের দিকে প্রথমে পেপার স্প্রে করেন মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক দফতরের (আইসিই) আধিকারিকেরা। এই সময় অ্যালেক্স বাধা দিতে গেলে তাঁকে রাস্তা ফেলে মারধর করা হয়। একসময় গুলি চালান আধিকারিকেরা এবং রাস্তায় ছিটকে পড়ে অ্যালেক্সের দেহ। আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, অ্যালেক্সের হাতে পিস্তল ছিল এবং তিনি হিংসাত্মক ভাবে প্রতিবাদ করছিলেন। তাই আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে হয়েছে আইসিই-কে। এই বক্তব্যের সঙ্গে ভিডিয়োর দৃশ্য মিলছে না। সিএনএন ঘটনাস্থলের ভিডিয়ো বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, গুলি চালানোর আগে অ্যালেক্সের হাত থেকে পিস্তল কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, চার-পাঁচ জন আইসিই কর্তা অ্যালেক্সকে ঘিরে ধরেছেন। পেপার স্প্রে করতে করতেই ধাক্কা মেরে তাঁকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। রাস্তার এক ধারে জমে রয়েছে বরফ। ভারসাম্য রাখতে পারেননি যুবক। ওঠার চেষ্টা করলেও তাঁকে আর দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। এই সময় তাঁর হাত থেকে পিস্তল টেনে নেওয়া হয়। তার পর চালানো হয় গুলি। অভিবাসন আধিকারিকদের আত্মরক্ষার তত্ত্বকে সমর্থন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেও। উল্টে তিনি হুমকির সুরে জানিয়েছেন, এর চেয়েও খারাপ কিছু হতে পারত মিনেসোটায়। ১২ হাজার অভিবাসীকে মিনিয়াপোলিস থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

অ্যালেক্সের বাবা-মা যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘অ্যালেক্স বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল ছিল। আইসিইউ নার্স হিসাবে বয়স্ক নাগরিকদের খুব যত্ন করত। ওর কাজের প্রভাব দেখার জন্য ও আর আমাদের মধ্যে রইল না। আমাদের পুত্রের সম্বন্ধে প্রশাসনের অসহ্য মিথ্যাগুলি আর নেওয়া যাচ্ছে না। ও খুব ভাল মানুষ ছিল।’’ সংবাদসংস্থা এপিকে অ্যালেক্সের বাবা জানিয়েছেন, মিনিয়াপোলিসের প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আগে পুত্রের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছিল। পুত্রকে তিনি সাবধানে এবং বিতর্ক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সাবধানতা অবলম্বন করা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো গেল না।

Advertisement
আরও পড়ুন