US-China Relations

বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে! দাবি দুই রাষ্ট্রপ্রধানের, তবে তাইওয়ান, ইরান নিয়ে মতপার্থক্য থাকলই, দেশে ফিরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পাশে বসিয়ে চিন প্রেসিডেন্ট জিনপিং দাবি করেন, ‘‘অসাধারণ একটা মুহূর্ত। আশা করি, আগামী দিনে আমাদের দু’দেশের মধ্যে আরও ভাল কিছু হবে।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ১৪:৩৫
চিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে বেজিঙে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স।

চিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে বেজিঙে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স।

বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। এমনই দাবি করলেন আমেরিকা এবং চিন—দুই রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং। সাংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন বিষয়ে দু’জনে সম্মত হলেও ইরান এবং তাইওয়ান নিয়ে মতপার্থক্য থেকেই গেল। এই দুই বিষয়ে কোনও সমাধানসূত্র বার হয়নি। শেষমেশ ওই দুই বিষয় অমীমাংসিত অবস্থাতেই বেজিং ছাড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পাশে বসিয়ে চিন প্রেসিডেন্ট জিনপিং দাবি করেন, ‘‘অসাধারণ একটা মুহূর্ত। আশা করি, আগামী দিনে আমাদের দু’দেশের মধ্যে আরও ভাল কিছু হবে। আরও অনেক বিষয়ে আমরা পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করে তুলব।’’ অন্য দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘‘অনেক সমস্যারই সমাধান হয়েছে। যেটা অনেকেই করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’’

তবে মার্কিন বিদেশ দফতরের সঙ্গে যুক্ত এক সূত্রের দাবি, বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ছাড়াও বৈঠকে ইরান এবং তাইওয়ানের প্রসঙ্গও উঠে আসে। ওই সূত্রের দাবি, হরমুজ় প্রণালী এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়টি নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনা হয়। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক এবং হরমুজ় প্রণালী দ্রুত খুলে যাক, এই বিষয়টিতে সম্মত হয়েছেন জিনপিং। শুধু তা-ই নয়, এই দুই বিষয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। আর এ ক্ষেত্রে জিনপিঙের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন ট্রাম্প। ওই সূত্রের দাবি, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য সমর্থন করলেও নির্দিষ্ট কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি চিন প্রেসিডেন্ট।

ইরান ছাড়াও তাইওয়ানের প্রসঙ্গও ওঠে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকে। তাওয়ানে চিনা ‘আগ্রাসন’ যাতে বন্ধ হয় সে বিষয়েও আলোচনা হয় বলে ওই সূত্রের দাবি। তবে এ বিষয়টি নিয়েও প্রতিশ্রুতি আদায়ে ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রসঙ্গত, বেজিঙে দুই দেশের শীর্ষবৈঠকের আগে জিনপিং হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, চিন এবং আমেরিকার সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাইওয়ান। এ ক্ষেত্রে যদি কোনও ভুল পদক্ষেপ হয়, তা হলে ‘বিপজ্জনক’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ঘটনাচক্রে, তার পরই বিভিন্ন সূত্র মারফত প্রকাশ্যে আসে যে, বৈঠকে দু’টি বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এবং কোনও সিদ্ধান্তেই উপনীত হতে পারেননি তাঁরা। তার পরই বেজিং ছাড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement
আরও পড়ুন