দশম ‘ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবসিন ম্যানেজমেন্ট কনফারেন্স’
দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক বাস্তবতার মধ্যে প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যা মূল্যবোধে থাকবে দৃঢ় এবং ভবিষ্যতের জন্য হবে প্রস্তুত। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে আয়োজিত হয়েছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবসিন ম্যানেজমেন্ট কনফারেন্স’ (জিএমসি),-এর দশম পর্ব যা অ্যাকাডেমিক আলোচনা এবং চিন্তার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছিল।
এই কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’ (জিবিএস) স্নাতকোত্তর ম্যানেজমেন্ট শিক্ষায় ২৫ বছরের সাফল্য উদ্যাপন করল।
গত ২৫ বছরে জিবিএস এমন ম্যানেজমেন্ট শিক্ষার উপর জোর দিয়েছে, যা শুধু দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নৈতিকতা, চিন্তাশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়। দশম আন্তর্জাতিক জিএমসি সেই ভাবনাকেই সামনে এনেছে এবং তাদের রজতজয়ন্তী বছরে পোস্টগ্রাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট শিক্ষায় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে।
গ্লোবসিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান বিক্রম দাশগুপ্ত বলেন, “গত পঁচিশ বছর ধরে ম্যানেজমেন্ট শিক্ষায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছি। আমরা শুধু অ্যাকাডেমিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছি। আমরা এমন ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে চাই, যারা নৈতিক জটিলতা বুঝতে পারে, বিভিন্ন স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারে এবং সহমর্মিতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়।”
এই সম্মেলনে কর্পোরেট, সরকার, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার ১৫ জনেরও বেশি বিশিষ্ট বক্তা অংশ নিয়েছিলেন। দুই দিন ধরে চলা এই অনুষ্ঠানে প্রথম দিনে ১৭০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী ৪৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। দ্বিতীয় দিনে প্যানেল আলোচনা, জার্নাল প্রকাশ এবং নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ১০০ জনেরও বেশি।
এই বছরের সম্মেলনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক রামকৃষ্ণ মিশনের দুই স্বামীজির উপস্থিতি। মালয়েশিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান স্বামী সুপ্রিয়ানন্দ মহারাজ উদ্বোধনী ভাষণ দেন এবং ‘রেস্পন্সিবল লিডারশিপ: শেয়ারিং ফিউচার লিডারস ফর এথিকাল ডিসিশন মেকিং’ শীর্ষক ইবিএসসিও-তালিকাভুক্ত ‘গ্লোবসিন ম্যানেজমেন্ট জার্নাল’, ভলিউম XIX প্রকাশ করেন।
প্রথম প্যানেল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘এথিকাল অ্যান্ড রিফ্লেক্টিভ লিডারশিপ ফর শেপিং ফিউচার লিডারস’। এতে শিল্পক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আলোচনা করেন, কী ভাবে জটিলতা, অনিশ্চয়তা এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময়ে নেতৃত্বকে নতুনভাবে ভাবা যায়।
ফ্রান্সের গ্রেৎজ়ে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের ভেদান্তিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এবং স্পিরিচুয়াল ডিরেক্টর স্বামী আত্মরূপানন্দ দ্বিতীয় প্যানেলের বিষয়বস্তু ‘ইউনিভার্সাল অ্যান্ড বেনেভোলেন্স: ভ্যালুজ় ফর রেস্পন্সিবল লিডার্স’ নিয়ে কথা বলেন।
বিশদে জানতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর ডিরেক্টর এবং ট্রাস্টি রাহুল দাশগুপ্ত বলেন, “গ্লোবসিন ম্যানেজমেন্ট কনফারেন্স শুরু হয়েছিল এমন একটি মঞ্চ হিসেবে, যেখানে শিক্ষার্থী এবং গবেষকরা সমকালীন গবেষণা এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। গবেষণাপত্র উপস্থাপন, প্যানেল আলোচনা এবং জার্নাল প্রকাশের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিক্ষাদর্শকে বাস্তব রূপ দিই, যাতে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা দক্ষ, নৈতিক এবং শিল্পক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।”
শেষ পর্বে সেরা সাতটি গবেষণা দল তাদের কাজ উপস্থাপন করেন এবং শিল্পক্ষেত্রের বিশিষ্ট বিচারকমণ্ডলীর সামনে তা তুলে ধরেন।
দশম আন্তর্জাতিক গ্লোবসিন ম্যানেজমেন্ট কনফারেন্স শেষ হলেও এটি জিবিএস-এর ২৫ বছরের মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিকে আবারও সামনে এনেছে। এটি শুধু একটি সম্মেলন নয়, বরং ভাবনা ও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। জ্ঞান, নতুনত্ব, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে আগামী দিনের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যকে এটি আরও দৃঢ় করেছে।
এই প্রতিবেদনটি ‘গ্লোবসিন বিজ়নেস স্কুল’-এর সঙ্গে আনন্দবাজার ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।