Gas Cylinder Crisis

দু’বছরেও ঠিক করা যায়নি রাস্তা খোঁড়ার খরচের হার, পাইপে গ্যাস সরবরাহ থেকে বহু দূরে কলকাতা

কলকাতা পুর এলাকা-সহ শহরতলিতে পাইপে গ্যাস দেওয়ার ছাড়পত্র আছে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানির হাতে। সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায়ও জানান, ছাড়পত্র মিলেছে। দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস যথেষ্ট রয়েছে। ফলে পাইপে তা পেতে সমস্যাও নেই। তবু পরিষেবা চালু হয়নি।

অঙ্কুর সেনগুপ্ত
শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৭:২৪

—প্রতীকী চিত্র।

গত কয়েক দিন ধরে কলকাতা-সহ গোটা দেশে যে ভাবে রান্নার গ্যাস নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা নজিরবিহীন বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অপ্রতুল জোগান ও গৃহস্থের সিলিন্ডার নিয়ে আতঙ্ক অবস্থাকে আরও জটিল করেছে। যে কারণে পাইপে রান্নার গ্যাস সরবরাহে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। তবে বিশেষজ্ঞদের আক্ষেপ, কলকাতা এখন চাইলেও এই সুযোগ নিতে পারবে না। কারণ চূড়ান্ত হয়নি রাস্তায় কাজ চালানোর খরচের হার। ফলে পাইপে গ্যাস পরিষেবা বিশ বাঁও জলে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, তা ঠিক সময়ে চালু করা গেলে সমস্যা কম হত। বেঁচে যেত বহু হোটেল-রেস্তরাঁ।

কলকাতা পুর এলাকা-সহ শহরতলিতে পাইপে গ্যাস দেওয়ার ছাড়পত্র আছে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানির হাতে। সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায়ও জানান, ছাড়পত্র মিলেছে। দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস যথেষ্ট রয়েছে। ফলে পাইপে তা পেতে সমস্যাও নেই। তবু পরিষেবা চালু হয়নি।’’ সূত্রের খবর, এর অন্যতম কারণ পুর-গাফিলতি। কলকাতা পুর এলাকার রাস্তায় কাজ করলে খরচ বাবদ কত টাকা পুরসভাকে দিতে হবে, তা নিয়েই সিদ্ধান্ত হয়নি। এই প্রসঙ্গে শুক্রবার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘একবার বেঙ্গল গ্যাস একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। কথাবার্তা হয়। তারপর আর ওরা আসেনি, কথাও এগোয়নি।’’

বেঙ্গল গ্যাসের দাবি, শহরে পাইপ বসাতে কলকাতা পুরসভা মিটারে প্রায় ৮৪৪ টাকা চাইছে। অথচ অন্য সব পুরএলাকায় তা ১৫০ টাকার আশেপাশে। সংস্থা তা কমানোর আবেদন করেছিল। ২০২৩-এর নভেম্বরে চিঠিও দেওয়া হয়। তার পরে একাধিক বৈঠক ও চিঠি চালাচালির পরেও পুরসভার চূড়ান্ত উত্তর আসেনি। এ নিয়ে ৮ জানুয়ারি বেঙ্গল গ্যাসের সিইও কলকাতা পুরসভার তৎকালীন কমিশনার সুমিত গুপ্তের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু হাল বদলায়নি, দাবি অনুপমের।

গত বুধবার ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তপন দাশগুপ্ত পাইপে গ্যাস চালু করা নিয়ে পুরসভায় বক্তব্য রাখেন। তার প্রেক্ষিতে মেয়র জানান, পুরসভার সঙ্গে সংস্থার কথা হয়েছে। যাদবপুর, টালিগঞ্জ, কসবা এলাকায় লাইন পাতার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। কাজ চলছে। তবে কবে গ্যাস মিলবে পুরসভার জানা নেই। সূত্রের দাবি, বাস্তব ছবিটা আলাদা। গত বছর মার্চ-এপ্রিলে কালিকাপুর থেকে যাদবপুর থানা ৩.৫ কিলোমিটারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই লাইন বসিয়েছে বেঙ্গল গ্যাস। অনুপম বলেন, ‘‘রেট চূড়ান্ত না হওয়ায় শহরে লাইন পাততে পারছি না। পাইলট প্রকল্প সত্ত্বেও পরিকাঠামো না থাকায় এই লাইনে গ্যাস পাঠানো যাচ্ছে না।’’

প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, খরচ সংক্রান্ত ফাইল একাধিক বার মেয়রের কাছে গেলেও তা পাশ হয়নি। অনুপম বলেন, ‘‘কলকাতার আশেপাশে বহু পুরসভা সায় দিয়েছে। সেখানে লাইন পাতা শেষ। কল্যাণীতে অনেকে ব্যবহারও করছেন। শীঘ্রই আরও ৩-৪টি পুর এলাকায় চালু হবে। কিন্তু কলকাতা নিয়ে আমি দিশাহারা।’’ সংস্থা সূত্রের দাবি, ৮৪৪ টাকা ধরলে কলকাতায় ৩৪০০ কিলোমিটারে পাইপ বসাতে লাগবে প্রায় ৫৬৫ কোটি। এটা বহন করা কার্যত অসম্ভব। যদিও প্রকল্প চালু হলে এখানে বাড়ি, হোটেল ও রেস্তরাঁ মিলিয়ে প্রায় ৩.৫ লক্ষ গ্রাহক গ্যাসের সংযোগ পাবেন।

কেন্দ্র সাধারণ মানুষকে বলছে, প্রাকৃতিক গ্যাস, অর্থাৎ পাইপে রান্না ও গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের গ্যাসের জোগান যথেষ্ট। সম্ভব হলে সকলে সেই সংযোগ নিন। সম্প্রতি কলকাতায় এসে সেই অনুরোধ করেন পেট্রোলিয়াম বোর্ডের সদস্য এ কে তিওয়ারিও। বলেন, ‘‘এই গ্যাস দেশে উৎপাদন হয়, সমস্যা তাই কম। পেট্রোলিয়ামজাত তেল-গ্যাস আমদানি হওয়ায় সমস্যা বেশি।’’

আরও পড়ুন