Delhi Diary

দিল্লি ডায়েরি: রাজ্যসভায় অভিনেত্রী, লোকসভায় ‘অভিনেতা’

সেন্ট্রাল হলের এক দিকের টিভিতে তখন লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা চলছে। অন্য দিকের টিভিতে রাজ্যসভায় জয়া বচ্চনের বক্তৃতা চলছে।

প্রেমাংশু চৌধুরী, অনমিত্র সেনগুপ্ত
শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৫:২৯
An image of Delhi Diary

দিল্লি ডায়েরি। ফাইল ছবি।

লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার ধন্যবাদজ্ঞাপন প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কে জবাব দিচ্ছেন। রাজ্যসভার সাংসদরা অনেকেই সেন্ট্রাল হলে জমা হয়েছেন। সেন্ট্রাল হলের এক দিকের টিভিতে তখন লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা চলছে। অন্য দিকের টিভিতে রাজ্যসভায় জয়া বচ্চনের বক্তৃতা চলছে। কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ ফুট কাটলেন, একই সময়ে রাজ্যসভায় দেশের বিখ্যাত অভিনেত্রী বলছেন, লোকসভায় দেশের বিখ্যাত ‘অভিনেতা’ বক্তৃতা করছেন। জয়রাম রমেশের বক্তব্য বিজেপি নেতাদের কানে পৌঁছেছে কি না জানা নেই। তবে জয়া বচ্চন রাজ্যসভায় বিরোধীদের বিক্ষোভের সময় চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়ের দিকে তর্জনী দেখিয়ে কথা বলার জন্য বিজেপির তোপের মুখে পড়েছেন।

ব্র্যান্ড-সচেতন

সংসদে লুই ভিতোঁ-র দামি ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন বলে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বিজেপি নেতাদের কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন। এ বার বাজেট অধিবেশনে কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে লুই ভিতোঁ-র দামি মাফলার গলায় ঝুলিয়েছিলেন বলে বিজেপির নেতামন্ত্রীদের কটাক্ষ শুনতে হয়েছে। বিজেপি নেতারা কটাক্ষ করলেও মহুয়া এখনও সগর্বে সেই ব্যাগ নিয়ে ঘুরছেন। মল্লিকার্জুন আরও এক ধাপ এগিয়ে কেন্দ্রের এক মন্ত্রীর গলায় সেই মাফলার ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সেই মন্ত্রীও মাফলার নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। মল্লিকার্জুন তাঁকে বলেছেন, আমেরিকাবাসী ছেলে পাঠিয়েছিল। সেটা যেন নিলাম করে তাঁর টাকা পিএম কেয়ার তহবিলে জমা করে দেওয়া হয়।

An image of Jaya Bachchan

বিতর্ক: রাজ্যসভায় বক্তব্য পেশ করছেন জয়া বচ্চন। ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩। ছবি: পিটিআই।

বলরামের প্রয়াণে

ফুটবল মাঠের ‘সোনালি ত্রয়ী’র তুলসীদাস বলরামের প্রয়াণে শোকাচ্ছন্ন ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড’-এর ‘সোনার মেয়ে’ পি টি ঊষা। বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ পি টি ঊষা এখন অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনেরও সভানেত্রী। প্রয়াত অলিম্পিয়ানকে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ঊষা। কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশও খবর পেয়ে মুষড়ে পড়েছেন। তাঁর ছোটবেলা জুড়ে ছিল পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়, চুনী গোস্বামী ও তুলসীদাস বলরামের খেলা। রমেশ বলছেন, প্রথমে পি কে ও চুনী ৪০ দিনের ব্যবধানে চলে গেলেন। এ বার বলরাম। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে ‘সোনালি ত্রয়ী’ ভারতীয় ফুটবলকে গর্বিত করেছিল।

বাংলা শেখা চলছে

কেমন আছেন? বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার ছেলের বিয়ে উপলক্ষে বিয়েবাড়িতে প্রবেশ করছিলেন বাংলার সদ্য নিযুক্ত রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। তাঁকে দেখে বাংলায় কুশল জিজ্ঞাসা করেন রাজ্যের বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের দায়িত্ব পাওয়ার পরে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বাংলা শেখা শুরু করেছেন বোস। কিন্তু দিলীপের প্রশ্নবাণে থতমত খেয়ে যান তিনি। বোসের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনিই গোটা বিষয়টি ইংরেজিতে অনুবাদ করে দিয়ে রাজ্যপালকে জানান, দিলীপবাবুকে বলুন ভাল আছি। শেষে পাল্টা হেসে দিলীপকে ভাঙা বাংলায় ভাল আছি বলে পরিস্থিতি সামলান বোস।

নতুন ভূমিকায়

ছিলেন ডাক্তার। হয়েছেন সাংসদ। এ বার তিনি পুলিশ! ঠিক পুলিশ নন। সিনেমায় পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করছেন তৃণমূলের সাংসদ শান্তনু সেন। তা-ও একেবারে রাজ্য পুলিশের ডিজি-র চরিত্রে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্প নিয়ে একটি সিনেমার শুটিং-এ সম্প্রতি শান্তনুকে পুলিশের উর্দিতে দেখা গিয়েছে। নেতা থেকে অভিনেতা হওয়া শান্তনুর অভিনীত এই ছবির এপ্রিল মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা।

A glimpse of a shoot

অভিনয়: পুলিশকর্তার ভূমিকায় সাংসদ ফাইল ছবি।

‘বহূ’ থেকে ‘সাস’

‘বহূ’ এত দিনে ‘সাস’ হলেন। কিঁউকি সাস ভী কভী বহূ থী সিরিয়াল থেকেই ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন স্মৃতি ইরানি। পরবর্তী সময়ে হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেই স্মৃতির মেয়ে শ্যানেলের বিয়ে হল রাজস্থানের কেল্লায়। পাত্র প্রবাসী ভারতীয়। শ্যানেল স্মৃতির স্বামী জুবিন ইরানির প্রথম পক্ষের মেয়ে। দুই ক্ষেত্রে অবাধ বিচরণের কারণে এক দিকে ফিল্মি জগৎ ও অন্য দিকে রাজনৈতিক নেতা-সাংসদেরা ভিড় করেছিলেন স্মৃতির বিয়েতে। উপস্থিত ছিলেন শাহরুখ খান, জিতেন্দ্র, একতা কপূর, সাংসদ রবি কিশন।

আরও পড়ুন