— প্রতীকী চিত্র।
শিক্ষকের প্রধান কাজ শিক্ষাদান, তাঁর প্রধান কর্মস্থল স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু নির্বাচনের ঠেলায় কার্যত সেই শিক্ষকসত্তাই হারাতে বসেছে বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি বিএলও হিসাবে নির্বাচন কমিশনের এক নির্দেশিকা হাতে পেয়ে এমনই অভিযোগ করছেন স্কুল শিক্ষকদের একাংশ। এমনকি বাড়তি দায়িত্বের জন্য বাড়তি পারিশ্রমিকের দাবিও জানিয়েছেন তাঁদের কেউ কেউ।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি যে নির্দেশ তাঁরা পেয়েছেন সেখানে বলা হয়েছে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটের স্লিপ বিলি করতে হবে। ভোট কেন্দ্রের ওয়েব ক্যামেরা ব্যবস্থা সঠিক ভাবে রয়েছে কি না তা-ও দেখতে হবে তাঁদের। পাশাপাশি ভোটারদের সাহায্য করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, গত নভেম্বর থেকেই গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার বাঁধন আলগা হচ্ছে, তা তাঁরা উপলব্ধি করতে পারছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘‘নির্বাচনের কাজ করতে আমরা বাধ্য। প্রতি বছরেই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের এক বড় অংশই নির্বাচনের কাজে সব থেকে বেশি যুক্ত থাকে। কিন্তু এ বার যে ভাবে এসআইআর এবং পরবর্তী সময়ে সব শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের যুক্ত করা হয়েছে তার নজির নেই।’’ বর্তমানে স্কুলের পর্যায়ক্রমিক বা সামেটিভ পরীক্ষা যেমন ব্যাহত হচ্ছে। আবার কোনও কোনও স্কুলে পরীক্ষা নেওয়াও হয়েছে। সেই সব পরীক্ষার খাতা দেখার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে স্লিপ বিলি করার দায়িত্বে কার্যত নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে তাঁদের।
উচ্চ মাধ্যমিকের এক প্রধানপরীক্ষকের বক্তব্য, ‘‘পড়ুয়াদের খাতা দেখার সময়েও নির্বাচন কমিশনের বাড়তি দায়িত্ব কার্যত তাড়া করেছে। মানসিক চাপ নিয়ে পড়ুয়াদের খাতা দেখতে হয়েছে। আামাদের চাপের কোনও প্রতিফলন যেন পড়ুয়াদের খাতায় না পড়ে সেটাও মনে রাখতে হয়েছে।’’
বিএলও এবং ভোটকর্মী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘প্রথমে যখন বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন বলা হয়েছিল শুধুমাত্র এসআইআর-এর কাজ করতে হবে। সময় যত গড়িয়েছে তত কাজের চাপ বেড়েছে। এখন তো দেখছি জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ, সব কাজই বিএলও-দের করতে হচ্ছে।” তাঁর দাবি, যে হেতু অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকাই বিএলও হিসেবে কাজ করছেন তাঁরা গত কয়েক মাস স্কুলের কথা প্রায় ভুলতেই বসেছেন।
শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী বিএলও ডিউটি প্রতিরোধ মঞ্চের আহ্বায়ক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘এই সব অতিরিক্ত দায়িত্বের জন্য বিএলও-দের কোনও অতিরিক্ত সম্মানিকের কথা বলা হয়নি। তা ছাড়া তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিয়েও কেউ কোনও কথা বলছেন না। ফলে আমরা মঞ্চের পক্ষ থেকে ভোটের দিন এই অতিরিক্ত দায়িত্বের জন্য তাঁদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের দাবি করছি।’’