প্রতীকী চিত্র।
আইনজীবী হিসাবে কোর্টে কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে এ বার আরও সুবিধা পেতে চলেছেন আইনের পড়ুয়ারা। সম্প্রতি শীর্ষ আদালতকে এমনই জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষায় অল ইন্ডিয়া বার কাউন্সিল অফ এগ্জ়ামিনেশন (এআইবিই)-এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
২০২৪-এর আগে কারা পরীক্ষা দিতে পারতেন?
শুধুমাত্র বিসিআই স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের তিন বা পাঁচ বছরের এলএলবি ডিগ্রিধারীদেরই এআইবিই পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হত।
এর পর কী পরিবর্তন আসে?
২০২৩ সাল থেকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে এআইবিই পরীক্ষার আয়োজন করে বিসিআই। পরীক্ষার নিয়মবিধি স্থির করার ক্ষেত্রে মুখ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয় বিসিআই-কে। এর পর ২০২৪ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি-র চূড়ান্ত বর্ষের ন’জন পড়ুয়ার দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। জানানো হয়, আইনের চূড়ান্ত সেমেস্টারে পাঠরতরাও এআইবিই পরীক্ষা দিতে পারবেন। আইনে স্নাতক হওয়ার পরও যাতে পড়ুয়ারা আইনজীবী হিসাবে কাজ শুরু করার জন্য এআইবিই দিতে পারেন, সে জন্য কড়া পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেওয়া হয় বিসিআই-কে।
তা হলে কোথায় সমস্যা?
যে হেতু বছরে এক বারই এআইবিই-র পরীক্ষা আয়োজন করা হত বার কাউন্সিলের তরফে, তাই সুপ্রিম নির্দেশের পরও পড়ুয়ারা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছিলেন না। পরীক্ষা ব্যবস্থার জন্যই নিয়ম কার্যকর হলেও চূড়ান্ত সেমেস্টারে পাঠরত আইনের পড়ুয়াদের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। ফলে, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর এক বছর নষ্ট হচ্ছিল পড়ুয়াদের।
নতুন নিয়মে কী জানানো হয়েছে?
সম্প্রতি এই জটিলতা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে বার কাউন্সিল। শীর্ষ আদালতে কাউন্সিল জানিয়েছে, এখন থেকে বছরে দু’বার এআইবিই-র আয়োজন করা হবে। চূড়ান্ত বর্ষের পাঠরতরা এই পরীক্ষা দিতে পারবেন। তাঁদের শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শংসাপত্র জমা দিতে হবে। ফলে পঠনপাঠন শেষ হওয়ার পর দ্রুত ‘প্র্যাকটিস’ শুরু করার ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইল না আইনের পড়ুয়াদের।