সিবিএসই। ছবি: সংগৃহীত।
সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) স্বীকৃত সমস্ত স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। নয়া নির্দেশিকায় এমনই জানানো হয়েছে বোর্ডের তরফে। পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতেই স্কুলগুলির জন্য নির্দেশ জারি করেছে বোর্ড।
পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে গত ২৬ নভেম্বর বোর্ডের সাধারণ সভার বৈঠক হয়। বৈঠকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পরই এই নির্দেশিকা বোর্ডের। সিবিএসই-র পুরনো বিধিকেই সংশোধন করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, আগে যেখানে যে সমস্ত স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা কম, সেখানে নিজেদের ইচ্ছে মতো পূর্ণ সময় বা আংশিক সময়ের জন্য কাউন্সেলর নিয়োগ করা যেত। এখন থেকে সমস্ত বোর্ড স্বীকৃত স্কুলে প্রতি ৫০০ জন পড়ুয়া পিছু একজন কাউন্সেলিং এবং ওয়েলনেস শিক্ষক বা ‘সোশিয়ো-ইকোনমিক কাউন্সেলর’ থাকতে হবে। এ ছাড়াও নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে ৫০০ জন পড়ুয়া পিছু একজন কেরিয়ার কাউন্সেলর থাকতে হবে।
নিযুক্ত মানসিক স্বাস্থ্যের কাউন্সেলরদের মনোবিদ্যা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর যোগ্যতা থাকতে হবে। যাঁদের সোশ্যাল ওয়ার্কে স্নাতকোত্তরের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য বা কাউন্সেলিংয়ে স্পেশ্যালাইজ়েশন রয়েছে, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন এই পদে। এমনকি যাঁদের স্কুল কাউন্সেলিং বা চাইল্ড গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সেলিংয়ে ডিপ্লোমা রয়েছে, তাঁদেরকেও কাউন্সেলর হিসাবে নিয়োগ করা হবে। কাউন্সেলরদের ৫০ ঘণ্টার ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রোগ্রাম’ আয়োজন করতে হবে। পড়াতে হবে বোর্ড নির্ধারিত পাঠক্রমও। পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির দায়িত্বে থাকবেন এই কাউন্সেলরেরা।
নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কেরিয়ার কাউন্সেলরদের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সহায়তা করা। কলা, বিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর হলেই এই পদে নিয়োগ করা হবে।
বোর্ডের তরফে মানসিক স্বাস্থ্যের কাউন্সেলর এবং কেরিয়ার কাউন্সেলর— দু’জনকেই এই পদে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ চলবে দু’বছর। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের সার্বিক উন্নতির জন্যই এই পদক্ষেপ করা হবে।