— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
এ বার পাঠ্যপুস্তকে বাদ পড়ল ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটি। ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (এনসিইআরটি) নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইয়ে রাখা হয়নি সংবিধানের প্রস্তাবনাও। ফলে ‘সার্বভৌম’, ‘সমাজতান্ত্রিক’, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’-র মতো শব্দের ব্যাখ্যাও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বরং যুক্ত হয়েছে জরুরি অবস্থার এক বিশেষ অধ্যায়। তা নিয়ে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে বিতর্ক।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আগে যে বইটি নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা পেত, সেখানে ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতি ১’ শীর্ষক অধ্যায়ে ভারতীয় সংবিধান ও তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা ছিল। সেখানে সংবিধানের প্রস্তাবনাকে দার্শনিক ভিত্তির নথি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। পাশাপাশি, ওই অধ্যায়ে ধর্মনিরপেক্ষতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রের কোনও সরকারি ধর্ম থাকে না এবং সকল ধর্মকে সমান ভাবে দেখা হয়।
কিন্তু ২২০ পাতার নতুন পাঠ্যবইয়ে এ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বদলে জরুরি অবস্থার ইতিহাস ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের অধ্যায়ে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) যোগ করা হয়েছে। তাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান, পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বই ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোস্যাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’-এর বিশেষ অধ্যায়ে সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের ইতিহাসও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে, ১৯৪৬ সালে গণপরিষদ গঠন করে প্রথমে সংবিধানের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সংবিধান আসলে একটি ‘শক্তিশালী, নমনীয়, পরিবর্তনশীল এবং সংবেদনশীল’ নথি— এমনই ব্যাখ্যা করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের ওই অধ্যায়। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে সংবিধানে থাকা দেশের নাগরিকদের স্বাধীনতা, সমতা, ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা এবং স্বাধীনতা, সাম্য ও ধর্মচর্চার অধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
নতুন বইয়ে জরুরি অবস্থার অধ্যায় সংযোজনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক্স হ্যান্ডলে সংবিধান হত্যা দিবসের ইতিহাস ব্যাখ্যা করে তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পড়ুয়াদের সেই সময়ের ‘অশুভ কর্মকাণ্ড’ সম্পর্কে জানা উচিত।
পাঠ্যবইয়ে জরুরি অবস্থার ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত কেন করা হল? কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলট। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার প্রথমেই বই, ইতিহাস এবং সাহিত্যকে নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। সেটা বিজেপির লক্ষ্য হলেও, আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে।”
উল্লেখ্য, নবম শ্রেণির পাঠ্যে ইতিহাস, ভূগোল এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বইয়ের বদলে সমাজবিজ্ঞানের একটি বই থাকবে, এমনটাই জানিয়েছিল এনসিইআরটি। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বইটি পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে।