প্রতীকী চিত্র।
বাজেটে মাত্র এক হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে রাজ্য সরকার। তারই প্রতিবাদে এবং স্থায়ীকরণের দাবি নিয়ে বিকাশ ভবন অভিযান করলেন রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, দয়ার দান নয়, তাঁরা উপযুক্ত সাম্মানিক প্রত্যাশা করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে বিধাননগর স্টেশন থেকে পার্শ্বশিক্ষকদের মিছিল পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের পৌঁছোলেই শুরু হয় উত্তেজনা। সেখানেই পুলিশ আটকায় বিক্ষোভকারীদের। যদিও পরে তাঁরা বিকাশ ভবনের দিকে রওনা দেন।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে পার্শ্বশিক্ষকদের জন্য ১০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট নন রাজ্যের ৪০ হাজারেরও বেশি পার্শ্বশিক্ষক। স্থায়ীকরণ-সহ একাধিক দাবিতে তাঁরা মঙ্গলবার বিকাশ ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান।
আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা সরকারের কাছে হাজার টাকা ‘ভিক্ষা’ চান না। বরং, অবিলম্বে তাঁদের সরকারি বেতনকাঠামোর অধীনে স্থায়ী করা হোক।
পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের আহ্বায়ক ভগীরথ ঘোষ বলেন, “২০২৪-এর ১ মার্চ শিক্ষা দফতরের তরফে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গিয়েছিল নবান্নের তরফে। সেখানে প্রাথমিকে ২৮ হাজার টাকা, উচ্চ প্রাথমিকে ৩২ হাজার টাকা বেতন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের এক হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওযা হচ্ছে। আমরা এই এক হাজার টাকা প্রত্যাখ্যান করছি।”
শুধু বেতন বৃদ্ধি বা স্থায়ীকরণ নয়। পার্শ্বশিক্ষকেরা ইপিএফ, চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে আর্থিক সাহায্য ও পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা-সহ আরও বেশ কিছু দাবি তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালের পরে ধাপে ধাপে তাঁদের ভাতা মাত্র ১০০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক দেওয়া হত ১০ হাজার টাকা করে, তা বেড়ে হয়েছে ১০,৪২৮ টাকা। উচ্চ প্রাথমিকের ক্ষেত্রে ১৩ হাজার টাকা বেড়ে হয়েছে ১৩,৬৪১ টাকা।
পার্শ্বশিক্ষকেরা বলেছেন, অবিলম্বে তাঁদের বেতন বৃদ্ধি-সহ স্থায়ীকরণের দাবি মানতে হবে। না হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সদস্যেরা।