Career after 12th

স্বাস্থ্য পরিষেবার রূপরেখা স্থির করেন জনস্বাস্থ্য আধিকারিক, পেশাদার হয়ে ওঠা যাবে কী ভাবে?

পাবলিক হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য স্নাতক স্তরে বেছে নিতে হবে বিশেষ বিষয়। কী ভাবে ওই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা যেতে পারে, কাজের সুযোগ কেমন— তা নিয়ে রইল বিশদ তথ্য।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৯:০১

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নাগরিক অধিকারগুলির মধ্যে অন্যতম সুস্থ জীবনের অধিকার। তাই সুস্থ থাকার জন্য যে যে বিষয়গুলি সমাজে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন, তা যথাযথ ভাবে উপস্থিত কি না তা খতিয়ে দেখেন জনস্বাস্থ্য আধিকারিকেরা। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো তাঁদের অবদানও অনস্বীকার্য। জনস্বাস্থ্য আধিকারিকের তত্ত্বাবধানেই গড়ে ওঠে দক্ষ স্বাস্থ্য-নজরদারি ব্যবস্থা, দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার পরিকাঠামো, এবং সর্বোপরি, আপৎকালীন পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম স্বাস্থ্যব্যবস্থা।

Advertisement

কী পড়তে হয়

হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিকাঠামো এবং পরিষেবার ক্ষেত্রে কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন— সে সম্পর্কিত পরিকল্পনার জন্য পাবলিক হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে পঠনপাঠনের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে সকলের আর্থসামাজিক সক্ষমতার কথা মাথায় রেখে তাঁদের সুস্থ রাখার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করার কৌশলও শেখার সুযোগ রয়েছে ওই বিষয়ের মাধ্যমে।

স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত কাজ ছাড়াও প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণের কৌশল নিয়েও চর্চা করা হয়ে ওই বিষয়টিতে। তাতে প্রশাসক হিসাবে জরুরি পরিস্থিতিতে পরিষেবা চালু রাখা, রোগ নিরাময়ের জন্য টীকাকরণ অভিযানের পরিকল্পনা করার মতো কাজগুলিও কী ভাবে সম্পন্ন করা হয়, তা-ও শেখার সুযোগ রয়েছে।

কোন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ?

প্রশাসনিক কাজের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি, তথ্যের অনুসন্ধান এবং তা বিশ্লেষণ করা, নেতৃত্বদান এবং ব্যবস্থাপনার কৌশল, জনসংযোগ বৃদ্ধির নীল নকশা তৈরি করার মতো বিষয়ে দক্ষ হয়ে ওঠা যায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ নিরাময়, প্রতিরোধ ক্ষমতা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে পঠনপাঠনের সময় সমস্যা সমাধানের কৌশলও রপ্ত করার সুযোগ পাওয়া যায়।

দ্বাদশের পর পড়াশোনা কোন পথে?

পাবলিক হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়টি নিয়ে সরাসরি পড়াশোনার সুযোগ এ দেশে নেই। এই বিষয় নিয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য জনস্বাস্থ্য, হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কিংবা পাবলিক হেলথ ম্যানেজমেন্ট-এর মধ্যে যে কোনও একটিতে স্নাতক হতে হবে। স্নাতকোত্তর স্তরে ডিগ্রি কোর্স কিংবা ডিপ্লোমা এবং পিএইচডি-র জন্য পাবলিক হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। উল্লিখিত বিষয় নিয়ে পড়তে আগ্রহীদের বিজ্ঞান বিভাগের অধীনে উচ্চমাধ্যমিক কিংবা সমতুল পরীক্ষায় পাশ করা জরুরি।

কোথায় পড়াশোনা?

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক হেলথ, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ থেকে জনস্বাস্থ্য, হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কিংবা পাবলিক হেলথ ম্যানেজমেন্ট বিষয়গুলি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

দেশের বাইরে বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজেও উল্লিখিত বিষয়টি নিয়ে পঠনপাঠনের সুযোগ রয়েছে। তবে, সেখানে ভর্তি হওয়ার জন্য হেলথ সায়েন্সেস, নার্সিং, মেডিসিন-এর মতো বিষয়ে স্নাতক হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক স্তরের প্রবেশিকাতেও পাশ করতে হবে।

কাজের সুযোগ

সরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসা কেন্দ্র, স্বাস্থ্য বিভাগে উল্লিখিত বিষয়ে ডিগ্রিপ্রাপ্তেরা বিভিন্ন পদে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। এর মধ্যে ব্লক হেলথ অফিসার, পলিসি অ্যানালিস্ট, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার পদে নিয়মিত ভাবে নিয়োগ করা হয়ে থাকে।

এ ছাড়াও হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, কোয়ালিটি ম্যানেজার, মেডিক্যাল রেকর্ডস ম্যানেজার, অপারেশনস ম্যানেজার, হেল্থকেয়ার কনসালট্যান্ট পদে বেসরকারি সংস্থার অধীনে কাজের সুযোগ মিলতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন