UGC Equity Regulations 2026

সমতার বিধি ঘিরে অসাম্যের আশঙ্কা! ইউজিসি-র দিল্লি কার্যালয়ে বিক্ষোভ অসংরক্ষিত পড়ুয়াদের

সম্প্রতি ইউজিসি-র তরফে ‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন’ বিধি প্রকাশ করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৫
UGC

ইউজিসি। ছবি: সংগৃহীত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসাম্য দূর করতে সম্প্রতি নয়া বিধি প্রকাশ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে জাতিগত বৈষম্য বিরোধী এই নিয়মবিধিকে ঘিরে উষ্মা দেখা গিয়েছে উচ্চবর্ণের পড়ুয়াদের মধ্যে। মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লিতে ইউজিসি সদর দফতরের বাইরে এর বিরোধিতায় প্রতিবাদে সরব হন তাঁরা।

Advertisement

সম্প্রতি ইউজিসি-র তরফে ‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন’ বিধি প্রকাশ করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইকুয়াল অপারচুনিটি সেন্টার’ গঠন করতে হবে। থাকবে ‘ইকুইটি কমিটি’। যার সদস্য হবেন তফশিলি জাতি, উপজাতি, অনগ্রসর শ্রেণি, বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং মহিলারা। চালু করা হবে ২৪ ঘণ্টার ‘ইকুইটি হেল্পলাইন নম্বর’।

বিধিভঙ্গ হলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে ইউজিসি। এমনকি ইউজিসি-র বৈধ প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হতে পারে। এই বিধি একপেশে বলেই ক্ষোভ দেখা গিয়েছে অসংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত পড়ুয়াদের মধ্যে। মঙ্গলবার প্রতিবাদে সামিল পড়ুয়াদের দাবি, এই বিধি কার্যকর হলে ক্যাম্পাসে সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হবে। জাতিগত বৈষম্য দূর করার জন্য যে সমস্ত নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে ইউজিসি, তাতে আদতে অসংরক্ষিত শ্রেণিভুক্তরাই বৈষম্যের শিকার হবেন।

ইউজিসি-র প্রধান কার্যালয়ের সামনে পোস্টার হাতে জড় হন একদল পড়ুয়া। আরও বেশি সংখ্যক পড়ুয়াকে আন্দোলনের যোগ দেওয়ার আর্জিও জানান তাঁরা। সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি-র এক পড়ুয়া অলোকিত পুরোহিত জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম চালু হলে যে কোনও পড়ুয়াই মিথ্যে অভিযোগের শিকার হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনেরও কোনও সুযোগ থাকবে না তাঁর কাছে। তিনি আরও জানান, এই বিধি কার্যকর হলে ক্যাম্পাসে সব সময় কড়া নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে তাঁদের। এতে তাঁদের স্বাধীনতা খর্ব হবে।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ইউজিসি-র নতুন বিধির বিরোধিতায় সরব হয়েছে পড়ুয়া, শিক্ষক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। এক দিকে, যেখানে সরকারের দাবি, এই বিধি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতার পরিবেশ গড়ে তুলবে। অন্য দিকে, বিরোধীরা মনে করছেন, এর ফলে অসাম্য আরও বাড়বে এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে মিথ্যে অভিযোগও জমা পড়বে।

Advertisement
আরও পড়ুন