Anandapur Fire

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মৃত এবং নিখোঁজদের পরিবারকে ১০ লক্ষ করে ক্ষতিপূরণ: ফিরহাদ! ডেকরেটর্স গুদামের মালিককে জেরা

পুলিশ সূত্রে খবর, ডেকরেটর্স মালিকের নাম গঙ্গাধর দাস। রবিবার রাতে তাঁর ওই গুদামে ছিলেন অনেকে। সেই সময়ই আগুন লাগে। পুলিশ সূত্রে এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২১
Police take decorators warehouse owner to police station in Anandapur fire incident

আনন্দপুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কলকাতার মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে মৃত এবং নিখোঁজদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা হবে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এ কথা জানান কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে সাহায্য করা হবে। অন্য দিকে, আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভস্মীভূত ডেকরেটর্সের গুদামের মালিককে জেরা করছে পুলিশ। সূত্রের খবর, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তদন্তের স্বার্থেই ওই ব্যবসায়ীকে তুলে আনা হয়। তবে তাঁকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।

Advertisement

আনন্দপুরের মোমো কোম্পানির গুদামের লাগায়ো ছিল ওই ডেকরেটর্সের গুদামও। রবিবার রাত ৩টে নাগাদ জোড়া গুদামে আগুন লাগে। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর সেখানে ইতিউতি আগুন জ্বলছে। কী ভাবে আগুন লাগল, সেখানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা আদৌ ছিল কি না— এমন নানা প্রশ্ন ঘুরছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ডেকরেটর্স মালিকের নাম গঙ্গাধর দাস। রবিবার রাতে তাঁর ওই গুদামে ছিলেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে কেউ ফুলের কাজ করেন, কেউ আবার সাজানোর কাজে যুক্ত। বিভিন্ন জেলা থেকে তাঁরা কাজে গিয়েছিলেন। কাজ সেরে তাঁদের মধ্যে অনেকেই ঘুমোচ্ছিলেন। কেউ কেউ আবার টুকিটাকি নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সময়ই আগুন লাগে গুদামে। তার পরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও অজানা, অস্পষ্ট। অনেকেই নিখোঁজ। তাঁদের পরিবারের লোকেরা হন্যে হয়ে ঘুরছেন থানায়, হাসপাতালে, ঘটনাস্থলে। চারপাশে শুধু অসহায় মুখ।

পুলিশ সূত্রে এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আরও অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিখোঁজদের খোঁজ চলছে। আদৌ তাঁরা বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকলে কোথায় আছেন— তা জানা নেই। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরের পর ঘটনাস্থলে যান ফিরহাদ। তিনি জানান, পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তিনি বলেন, ‘‘আগুনটা খুব ভয়াবহ লেগেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।’’ অনেকে দাবি করেন, জলাজমি ভরাট করে এই সব গুদাম তৈরি হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে পুরমন্ত্রী বলেন, ‘‘২০০৬ সাল থেকে চলছে।’’ বেআইনি ভাবে কি এই গুদামে কাজ হচ্ছিল? তাদের কাছে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছিল কি? যদি না-হয় তবে কলকাতা পুরসভা কেন পদক্ষেপ করল না? ফিরহাদ বলেন, ‘‘কারও রুটিরুজি বন্ধ করা ঠিক নয়। জলাজমি কি না, তা আমার জানা নেই।’’ তিনি আশ্বাস দেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পাশে থাকবে সরকার। ফিরহাদের কথায়, ‘‘পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় পাঠিয়েছেন।’’ তবে তিনি জোর দিয়ে জানান, এখন আর কোনও জলাভূমি ভরাট হচ্ছে না, যা হয়েছে সব বাম আমলে!

Advertisement
আরও পড়ুন