যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত।
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধাম্ত নেওয়া যাচ্ছে না, পঠনপাঠন এবং প্রশাসনিক নানা কাজ আটকে গিয়েছে বলে অভিযোগ। তার পরেও প্রায় আড়াই মাস হতে চলল, যাদবপুরের কর্মসমিতির কোনও বৈঠক হয়নি। এ বার উপাচার্যের কাছে দ্রুত কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার আবেদন জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। আগামী শুক্রবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসার কথা রয়েছে আচার্য তথা রাজ্যপাল আর এন রবির। তার আগে কর্মসমিতি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। আচার্যের সামনেই এ বার এই দাবি তুলে ধরা হতে পারে বলে খবর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেই।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, শেষ বারের মতো কর্মসমিতির বৈঠক হয় গত ৪ এপ্রিল। তার পর থেকে আর কোনও বৈঠক হয়নি। গত ২২ মে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম শিক্ষক সংগঠন জুটা দ্রুত কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা এবং আরও নানা দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মরকলিপি দিয়েছিল। কিন্তু তার পরেও কোনও সাড়া মেলেনি। সূত্রের খবর, গত মে মাসে রাজ্যে পালাবদলের পরেই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে বিভিন্ন কমিটিতে বিগত তৃণমূল সরকারের মনোনীত ব্যক্তিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় বিজেপি সরকার। উচ্চশিক্ষা দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পরে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও জানিয়ে দেন যে, রাজ্য সরকারের নির্দেশের পরেও যাঁরা এই সব কমিটিতে রয়ে গিয়েছেন, ‘বিবেকের ডাকে’ সাড়া দিয়ে তাঁরা যেন সরে যান। এমনকি, বিগত সরকারের আমলে আচার্যের মনোনীত ব্যক্তিদেরও সরে যেতে বলেন মন্ত্রী।
এর কারণ হিসেবে শিক্ষা মহলের ব্যাখ্যা, এই সব ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারই আচার্যের কাছে যে সব নাম সুপারিশ করেন, আচার্য তাঁদের মধ্যে থেকেই মনোনীত করেন। ফলে সে দিক থেকে ওই ব্যক্তিরা সরকারের পছন্দের লোকই হন। তাই বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্ত। তার পরেই প্রশ্ন ওঠে যে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট থেকে সরকারের এবং আচার্যের প্রতিনিধি সরে দাঁড়ালে কী ভাবে এর পর এই বৈঠক সম্ভব? সূত্রের খবর, উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে এবং সম্প্রতি আচার্যের সঙ্গে বৈঠকের সময়েও উপাচার্যদের এই বৈঠক করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান, তাঁদেরও কমিটিতে মনোনীত সদস্য নেই। কিন্তু উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে তাঁরাও বৈঠক করতে প্রস্তুত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কেন ওই বৈঠক ডাকছে না?
শিক্ষকদের অভিযোগ, নতুন ‘জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০২০’ অনুযায়ী, ১ বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করতে চাইছে বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু কর্মসমিতির বৈঠক না হওয়ায় সেই কাজ করা যাচ্ছে না। বহু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্তও আটকে রয়েছে। বিদেশি নানা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতায় নানা কাজ শুরুই করা যায়নি। এমনকি, নতুন কমিটি না হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণের কাজও আটকে গিয়েছে। ক্যাম্পাসে কিছু কিছু ভবনে যে ভাবে মেরামতির প্রয়োজন তা অবিলম্বে না হলে যে কোনও সময় অঘটন ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকেরা। নিয়োগের বিষয়েও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি। কর্মসমিতির বৈঠক যে প্রয়োজন তা মানছেন কর্তারাও। তা হলে কবে হবে ওই বৈঠক? বাধা আসছেই বা কোথা থেকে? এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের মধ্যে থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কর্মসমিতিতে সরকারের প্রতিনিধি না থাকার জন্যই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দর থেকে কোনও পক্ষ চাপ তৈরি করতে চাইছে?
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি, উত্তর দেননি মেসেজেরও।