DA protest

শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা কি মহার্ঘ ভাতা পাবেন? সংশয়ের আবহে পথে নেমে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ইন্দু মলহোত্র কমিটির সুপারিশ অগ্রাহ্য করছে রাজ্য সরকার। একাংশ কর্মীকে বঞ্চিত করে ভোটের রাজনীতি করতে চাইছে রাজ্য সরকার। সাত দিনের মধ্যে শিক্ষা দফতর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪১
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে রাজ্যের অর্থ দফতর। কিন্তু তার পরেও শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা আদৌ তা পাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে তাঁরা কি মহার্ঘ ভাতা পাবেন, স্পষ্ট ভাবে তার উল্লেখ নেই বলেই অভিযোগ।

Advertisement

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক দাবি করেছেন, অর্থ দফতরের তরফে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত এবং পৌরসভার মতো স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের ২০১৮-এর এপ্রিল থেকে ২০১৯-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ কত, তা উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই হিসাব জানাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই তৈরি হয়েছে সংশয়। তা হলে কি তাঁরা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাবেন না?

শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও মার্চের মধ্যে নির্ধারিত বকেয়া মিটিয়ে দিতেই হবে। সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে কোন‌ও ভাবেই বিভাজন চলবে না। শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে ধোঁয়াশা রেখে শাসকদলের ভোট বৈতরণী পেরোনোর কৌশল কোন‌ওমতেই মেনে নেব না আমরা।”

শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ইন্দু মলহোত্র কমিটির সুপারিশকে অগ্রাহ্য করছে রাজ্য সরকার। একাংশ কর্মীকে বঞ্চিত করে ভোটের রাজনীতি করতে চাইছে তারা। সাত দিনের মধ্যে শিক্ষা দফতর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “এই নির্দেশিকায় শুধু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অমান্য করা হয়নি, খানিকটা যেন তালগোল পাকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা জিইয়ে রাখা হয়েছে। দ্রুত ‘ম্যাচিং অর্ডার’ প্রকাশ না করলে কর্মীদের একাংশ বঞ্চিত হবেন।”

যদিও এ প্রসঙ্গে বিকাশ ভবনের শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, তাঁরা এখন‌ও অর্থ দফতরের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি পড়েই উঠতে পারেননি। নির্দেশিকা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন।

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করলে ১০ লক্ষ শিক্ষিত মানুষ পথে নেবে আন্দোলনে শামিল হবেন। ছলচাতুরি করে ভোট বৈতরণী আর আমরা পেরোতে দেব না। সুপ্রিম নির্দেশে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ভাতা দিতে হবে।”

শিক্ষামহল ও সংগঠনগুলির বক্তব্য, এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে দফতর ‘ম্যাচিং অর্ডার’ প্রকাশ না করলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলন‌ও সংগঠিত করা হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন